মানুষের প্রকৃত সফলতা ও ব্যর্থতা

মোহাম্মদ এনামুল হক

ইসলাম

মানবজীবনের প্রকৃত লক্ষ্য ও গন্তব্য কী- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা আমাদের সামনে এক অনন্য দিগন্ত উন্মোচন

2026-07-16T10:25:47+00:00
2026-07-16T10:25:47+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬,
১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
মানুষের প্রকৃত সফলতা ও ব্যর্থতা
মোহাম্মদ এনামুল হক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
মানবজীবনের প্রকৃত লক্ষ্য ও গন্তব্য কী- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা আমাদের সামনে এক অনন্য দিগন্ত উন্মোচন করে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে আখেরাতের প্রস্তুতির সুবর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মুমিনুনের ১০২ থেকে ১০৮ নম্বর আয়াতের গভীর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তা একজন মুমিনের জীবনের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ ও সুশৃঙ্খল দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

দুনিয়ার প্রচলিত মানদণ্ডে সফলতা বলতে আমরা সাধারণত জাগতিক সুখ, অঢেল ধন-সম্পদ, উচ্চ পদমর্যাদা বা সামাজিক খ্যাতির বিচারে মানুষকে বিচার করি। কিন্তু মহান আল্লাহর কাছে সফলতার মানদণ্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন ও শাশ্বত। পবিত্র কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, আখেরাতের সেই চূড়ান্ত বিচার দিবসে যার নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে, সেই হবে প্রকৃত সফলকাম। এটি একজন মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা যে, তার প্রতিটি ছোট-বড় সৎকাজ আল্লাহর দরবারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জমা হচ্ছে এবং তা-ই তার চিরস্থায়ী জীবনের পরম পাথেয় হিসেবে গণ্য হবে।

এর বিপরীত চিত্র ফুটে ওঠে সুরা আল-মুমিনুনের পরবর্তী আয়াতগুলোতে, যা ব্যর্থতার এক ভয়াবহ ও শিক্ষণীয় দৃশ্যপট তুলে ধরে। যাদের নেক আমলের পাল্লা হালকা হবে, তারা আখেরাতে নিজেদেরই চরম ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে আবিষ্কার করবে। এখানে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, পার্থিব মোহ এবং রিপুর তাড়নায় প্রবৃত্তির দাসত্ব মানুষকে আল্লাহর হেদায়েত ও রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যা চূড়ান্ত ব্যর্থতার মূল কারণ। জাহান্নামের সেই কঠিন শাস্তির মুখে দাঁড়িয়ে মানুষ যখন পৃথিবীতে ফিরে গিয়ে সংশোধনের ব্যাকুল আবেদন জানাবে, তখন অনুশোচনার জন্য সময় অনেক দেরি হয়ে যাবে। আখেরাতের করুণ দৃশ্য আমাদের এই অমোঘ সত্যটি বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মৃত্যুর পর তওবা ও আমল করার দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।


দুনিয়ার জীবন হলো শস্যক্ষেত্রের মতো কর্মক্ষেত্র, আর আখেরাত হলো তার ফল ভোগের চিরস্থায়ী স্থান। এই আয়াতগুলোর শিক্ষা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অধিকতর সচেতন করতে শেখায়। আমাদের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস, প্রতিটি চিন্তা ও প্রতিটি কর্ম যদি কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয়, তবেই আমরা আখেরাতে ভারী নেক আমলের পাল্লার অধিকারী হতে পারব। একজন মুমিন হিসেবে আমাদের করণীয় হলো, প্রতিনিয়ত নিজেদের কর্মের আত্মসমালোচনা করা এবং তওবা ও ইসতিগফারের মাধ্যমে আত্মাকে সব ধরনের পাপাচার থেকে কলুষমুক্ত রাখা।

দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী চাকচিক্য ও প্রলোভন আমাদের বিভ্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বুদ্ধিমান মুমিন তিনিই, যিনি মৃত্যুর আগের এই সংক্ষিপ্ত সময়কে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগান। আসুন, আমরা এমন একটি জীবনধারা গড়ে তুলি, যেখানে নেক আমলের পাল্লা ভারী করার এক সুস্থ ও কল্যাণকর প্রতিযোগিতা থাকবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র কুরআনের শিক্ষাকে যথাযথভাবে ধারণ করে নেক আমলের মাধ্যমে আখেরাতের চিরস্থায়ী ও কাক্সিক্ষত সফলতা অর্জনের তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   ইসলাম  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: