ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির প্রয়োজনে সেনাবাহিনী পরিচালিত আকাশপথের হামলার (এয়ার অ্যাসল্ট) মাধ্যমে হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েনের বিষয়টিও পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এই পরিকল্পনা মানেই যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা পেন্টাগন কিউবায় কোনো সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, এমনটি নয়।
পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা কিউবার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো অভিযান পরিচালিত হলে তার মূল দায়িত্বে থাকতে পারে ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন, কারণ এ ধরনের মিশনের জন্য এটিই একমাত্র প্রশিক্ষিত ইউনিট।
পেন্টাগনের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে সামরিক অভিযানের ধারণা নিয়ে একটি ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এটি নিয়মিত আপৎকালীন পরিকল্পনারই অংশ, যেখানে মিশনের উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয় জনবল, রসদ ও ঝুঁকিগুলো নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়।
কিউবায় যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বর্তমানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘায়িত সংঘাত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে বিপুল পরিমাণ সামরিক সম্পদ, গোয়েন্দা সক্ষমতা ও বিমানবহর নিয়োজিত রয়েছে। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, নিকট ভবিষ্যতে কিউবার দিকে বড় ধরনের সামরিক মনোযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কূটনৈতিক সমাধানের পথই খুঁজছেন। তিনি এমন একটি প্রযুক্তিগত সরকারের প্রত্যাশী, যারা অর্থনৈতিক সংস্কারে আগ্রহী। কিন্তু কিউবার সামরিক বাহিনী ও তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় এই প্রচেষ্টা থমকে আছে।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের মধ্যে মতপার্থক্যের খবরও শোনা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এসব গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তি প্রদর্শনে সফল হয়েছে।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ অবশ্য এ ধরনের ‘সামরিক পরিকল্পনা’ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সময়ের আলো/কহু