ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কিয়েভ সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরের এই হামলায় এক কিশোরসহ অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। কিয়েভের দুটি জেলায় আঘাত হানা রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গুদামঘর ও বেশ কিছু গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যখন কিয়েভে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটল। নিজের মেয়াদের শেষ দিকে থাকা স্টারমার কিয়েভে পৌঁছে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের এই লড়াই কেবল তাদের সুরক্ষার জন্য নয়, ইউরোপের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সরকার ও প্রতিরক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কোকে বরখাস্ত করার পর এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকেও সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। এই রদবদল যুদ্ধের এই সংবেদনশীল মুহূর্তে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিদায়ী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফেদোরভ জানিয়েছেন, ইউক্রেন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর তৈরির সবুজ সংকেত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে জুন মাস ছিল ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আবাসিক এলাকায় আঘাত হানায় প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কিয়েভ এখন তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের দিকে তাকিয়ে আছে।
সময়ের আলো/কহু