যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও খ্যাতিমান ভূকম্পবিজ্ঞানী চেন ইউলিনকে প্রায় ২ বছর ধরে আটকে রেখেছে চীন। ৫৪ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। ব্যপারটি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা, মানবাধিকারকর্মী এবং তার পরিবারের দাবি, বিজ্ঞানী ইউলিন চেনকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে এবং এখনো তার বিচার শুরু হয়নি।
মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড মার্কি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভূকম্পবিজ্ঞানী ইউলিন চেনকে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে অন্যায়ভাবে আটক করে রেখেছে চীন।’
পরিবার ও জিম্মি বিষয়ক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘গ্লোবাল রিচ’ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে বেইজিংয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গ্রেফতার হন ইউলিন। বেইজিং তাকে মুক্তি দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা না দেখানোর পর, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার।
ইউনিলিনের স্ত্রী এবং সহকর্মী রোং ইউফাং জানান, তার স্বামী চীনা সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভুল এবং তার কাজের ধরনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, ৬০০ দিনের বেশি সময় ধরে তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। প্রথম ১৩ মাস ইউলিনকে কোনো আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি।
এদিকে, ইউলিনের গবেষণার মূল বিষয় ছিল চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র উত্তর কোরিয়া। পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ও ভূগর্ভস্থ পরীক্ষার জন্য দেশটির ওপর দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে, ইউলিনের কাজ বেইজিংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো অংশ স্পর্শ করেছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, চীন নতুন অস্ত্রভাণ্ডার তৈরি করছে এবং গোপনে পরীক্ষা চালিয়েছে। যদিও বেইজিং এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।
এর আগে, মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, “বিচার বিভাগ আইন অনুযায়ী মামলাটি পরিচালনা করছে। ‘অন্যায়ভাবে আটকে রাখার’ মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। চীনে গুপ্তচরবৃত্তির সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুও হতে পারে।”
উল্লেখ্য, চীনে জন্ম নেওয়া ইউলিন ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। এরপর থেকে তিনি বোস্টনের বাসিন্দা। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করা এই বিজ্ঞানী ভূকম্পন সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে পরমাণু পরীক্ষা শনাক্ত করার বিশেষজ্ঞ। তার গবেষণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে চীন তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ করছে ‘গ্লোবাল রিচ’।
মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড মার্কি বলেন, ‘ইউলিনের প্রতি বেইজিংয়ের এই আচরণ দুই দেশের অংশীদারিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে অন্য গবেষকরাও চীনে কাজ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।’
সময়ের আলো/মহু