জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য, তীব্রতা এবং আন্দোলনের রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক পটভূমি তুলে ধরে তিনটি বিশেষ সংকলন প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বই তিনটির প্রকাশনা উপলক্ষে পাঠ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির পরিচালক ও সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সমীর কুমার সরকার।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আজম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচিত্র মাত্রা ছিল এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকাশিত সংকলনগুলো শুধু জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোর ঘটনাই নয়, বরং অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক পটভূমিও তুলে ধরেছে।
সমীর কুমার সরকার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। লেখক ও গবেষকদের রচনায় সেই ইতিহাসের শৈল্পিক প্রতিফলন ঘটেছে।
সভায় প্রকাশিত তিনটি বইয়ের সম্পাদকরা তাদের সম্পাদনার অভিজ্ঞতা ও সংকলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রবন্ধ’ গ্রন্থের সম্পাদক সহুল আহমদ বলেন, এই অভ্যুত্থানকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গল্প’ সংকলনের সম্পাদক হুমায়ূন শফিক বলেন, বইটির লেখাগুলো কেবল গল্প নয়, বরং ইতিহাসের দলিল। এগুলো জুলাইয়ের উত্তাল সময় এবং মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে ধারণ করেছে।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ গ্রন্থের সম্পাদক আবিদ আজম বলেন, ঐতিহাসিক এই আন্দোলনে ছড়া, গান ও কবিতা স্ফুলিঙ্গের মতো মানুষের মধ্যে সাহস ও প্রেরণা ছড়িয়ে দিয়েছিল। আন্দোলনকে উজ্জীবিত করা ছড়া ও স্লোগানগুলোই এই সংকলনে স্থান পেয়েছে।
আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও গবেষক শিবলী আজাদ এবং কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক তুহিন খান।
বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মাহবুবা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে একাডেমির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, লেখক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আরবিএন