নৌপরিবহন খাতে আয় ও রাজস্ব বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নদী বন্দর ও নৌপথ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান ও এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া।
রোববার (১২ জুলাই) নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এসব নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় কর্তৃপক্ষের আয় ও রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়ন সংক্রান্ত পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম।
সভায় নৌপরিবহন খাতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও রাজস্বমুখী করতে ১১টি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনাগুলো হলো—
১. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষণ ড্রেজিংকে ব্যয় সাশ্রয়ী করে অধিকতর প্রয়োজনীয় স্থানে খননের ব্যবস্থা করা।
২. নৌসওপ বিভাগের কঞ্জারভেন্সী ও পাইলটেজ খাতে রাজস্ব আয়ে অধিকতর দৃষ্টিপাত।
৩. নৌনিট্রার বিভিন্ন নৌপথে সময়সূচী প্রদানে অধিকতর শর্ত আরোপ হ্রাস করে খাতভিত্তিক রাজস্ব আদায়ে মনোনিবেশ।
৪. বন্দর বিভাগের আয় বৃদ্ধিতে বিশেষত ফোরশোর ও তীরভূমি ব্যবহার ফি যুগোপযোগী করা এবং ঘাট বা পয়েন্ট সংক্রান্ত দেওয়ানী মোকদ্দমাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা।
৫. নদী বন্দর এলাকায় মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা।
৬. ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথে চলাচলে বিভিন্ন ঘাট পয়েন্টের সংস্পর্শে নৌযান চলাচলে সহায়ক ভূমিকা পালন করা।
৭. কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যে কোনো একটি ঘাট বা পয়েন্টকে আধুনিকায়ন করা।
৮. অননুমোদিত ডক ইয়ার্ডকে লাইসেন্সের আওতায় আনা।
৯. সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী কর্তৃক কর্তৃপক্ষের লীজ বা লাইসেন্স প্রদানকৃত জায়গায় কর্তৃপক্ষের পক্ষে দৃশ্যমান স্থানে প্লট নম্বর, মৌজা ও অবস্থানভিত্তিক সাইনবোর্ড স্থাপন করা।
১০. দেশের বিভিন্ন নৌপথে অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু দ্রুতগামী নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করা।
১১. দ্রুত নদীর বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য আধুনিক বর্জ্য পরিষ্কার করার মেশিন সংগ্রহ করা।
মতবিনিময় সভায় কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) (গ্রেড-২) ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য (পরি. ও পরি.) ও যুগ্মসচিব মো. সাজেদুর রহমান, সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদারসহ সকল বিভাগীয় প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ