দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চা’ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি) আয়োজিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এক আঞ্চলিক পরামর্শ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়।
সভায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, গবেষক এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। তারা এই অঞ্চলের খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, ভূমির অবক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্যের হ্রাসের প্রেক্ষাপটে একটি সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চা কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষির টেকসই সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য একটি অন্যতম কার্যকর পথ।
এরপর সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং সভার সমন্বয়কারী ড. রাজা উল্লাহ খান সভার উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে এই চর্চার সম্প্রসারণ পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীবিকার উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়কে আরও শক্তিশালী করবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে ভারতের কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি ও খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক প্রধান বিশেষজ্ঞ অংশুমান দাস। তিনি বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি শুধু কিছু কৃষি প্রযুক্তির সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে, বাহ্যিক উপকরণের ওপর নির্ভরশীলতা কমায় এবং জলবায়ুজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের (এআরডি এবং এসডিএফ) পরিচালক তানভীর আহমদ তরফদার বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেপালের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন সাবনাম শিবাকোটি জাতীয় কৃষিনীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে এই পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবন ও কৃষককেন্দ্রিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিন দিনব্যাপী এই আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই কৃষি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ও কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
সময়ের আলো/জোই