ঢাকার ডেমরার বক্সনগরের দারুন নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক ভবনের ষষ্ঠ তলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এবং তিনজন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীরা সবাই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানায়, বিকেলে শিক্ষার্থীরা যখন ছাত্রাবাসের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল, তখন দেওয়ালের একটি বৈদ্যুতিক সুইচবক্সে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় দেওয়ালের কয়েকটি ইট খসে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পড়লে তারা আহত হয়। একই সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী আগুনে দগ্ধ হয়।
দুর্ঘটনার পর পরই আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে আনা পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও রেদোয়ান (১৬) নামে এক ছাত্র মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধ অবস্থায় চার শিশুকে সেখানে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মুনতাসির রহমানের শরীরের ১০ শতাংশ, আদিবুল ইসলামের ৮ শতাংশ এবং আব্দুল্লাহ নাসিরের ৯ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
মুনতাসিরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শফিউল্লাহ নামের আরেক ছাত্রের ১ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের কারও অবস্থাই গুরুতর নয়।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।
সময়ের আলো/জেডি