ঘরে বসেই অনলাইনে যেভাবে বের করবেন জমির পর্চা

সময়ের আলো ডেস্ক

বিবিধ

জমি কেনাবেচা থেকে শুরু করে নামজারি, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ কিংবা আদালতে মালিকানা প্রমাণ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই জমির সঠিক কাগজপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

2026-07-14T23:30:21+00:00
2026-07-14T23:30:21+00:00
 
  বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
বিবিধ
ঘরে বসেই অনলাইনে যেভাবে বের করবেন জমির পর্চা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম 
জমির পর্চা হলো খতিয়ানের একটি অফিসিয়াল অনুলিপি। সংগৃহীত ছবি
জমি কেনাবেচা থেকে শুরু করে নামজারি, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ কিংবা আদালতে মালিকানা প্রমাণ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই জমির সঠিক কাগজপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব নথির মধ্যে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় দলিলগুলোর একটি হলো জমির পর্চা। বর্তমানে ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে পর্চা অনুসন্ধান এবং সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই জমির পর্চা কী, এর প্রয়োজনীয়তা এবং সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। 

জমির পর্চা কী?

জমির পর্চা হলো খতিয়ানের একটি অফিসিয়াল অনুলিপি, যেখানে জমির মালিক বা দখলদারের পরিচয়, জমির মৌলিক তথ্যসহ প্রয়োজনীয় বিবরণ উল্লেখ থাকে। এটি জমির মালিকানা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি কাজে ব্যবহৃত হয়।

কেন প্রয়োজন জমির পর্চা?

জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে পর্চার গুরুত্ব অনেক। জমি ক্রয়-বিক্রয়, নামজারি (মিউটেশন), ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ কিংবা জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে প্রমাণ হিসেবে এই নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক পর্চা না থাকলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অনলাইনে কীভাবে জমির পর্চা খুঁজবেন?

বর্তমানে নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খুব সহজেই জমির পর্চা অনুসন্ধান করা যায়। বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এরপর অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধের মাধ্যমে পর্চার কপি সংগ্রহ করা যায়।

ই-পর্চা ওয়েবসাইটে অনুসন্ধানের ধাপ

প্রথমে ই-পর্চা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করুন। তারপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা জমির মালিকের নাম লিখে সার্চ করুন। তথ্য সঠিক হলে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ানের বিস্তারিত তথ্য স্ক্রিনে দেখা যাবে।


আবেদন করতে যেসব তথ্য লাগবে

অনলাইনে পর্চার জন্য আবেদন করতে হলে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান বা দাগ নম্বর এবং জমির মালিকের নাম জানা থাকতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, সচল মোবাইল নম্বর এবং অনলাইনে ফি পরিশোধের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তথ্য সঠিক না হলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের নিয়ম

প্রথমে অনলাইনে প্রয়োজনীয় খতিয়ান অনুসন্ধান করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন অনুমোদনের পর কপিটি অনলাইনে ডাউনলোড করা যাবে অথবা ডাকযোগে সংগ্রহ করা যাবে। সরকারি ও আইনি কাজে এই সার্টিফায়েড কপি গ্রহণযোগ্য।

পর্চা ও খতিয়ানের পার্থক্য

খতিয়ান হলো জমির মূল রেকর্ড, যেখানে মালিকানা, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি, অংশ, খাজনা ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে পর্চা হলো সেই খতিয়ানের একটি অনুলিপি বা নির্যাস, যা সাধারণত তথ্য যাচাই ও ব্যবহারিক প্রয়োজনে কাজে লাগে। অর্থাৎ, খতিয়ান মূল দলিল হলেও পর্চা সেই দলিলের কার্যকর কপি।

সচেতন থাকুন

জমি সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেনের আগে পর্চা ও খতিয়ানের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। অনলাইন সেবার ফলে এখন খুব সহজেই জমির তথ্য যাচাই, পর্চা অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় কপি সংগ্রহ করা সম্ভব। সঠিক নথি সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও আইনি জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায়।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ



  বিষয়:   জমি  পর্চা  অনলাইন 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: