প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:১১ এএম
অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলামকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যায়িত করে ক্যাম্পাসছাড়া করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীতজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলামকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাসছাড়া করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তার অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সামনে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে তিনি অফিস কক্ষ ছেড়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার ‘জুলাই যোদ্ধা ও সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ড. আইনুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তার নিয়োগ বাতিলের আহ্বান জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি ও বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে তিনি ডিন অফিস ত্যাগ করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ড. আইনুল ইসলামের ভূমিকা বিতর্কিত ছিল। তিনি বিগত আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ৩ আগস্ট গণভবনে অনুষ্ঠিত একটি বিতর্কিত বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা তার কাছে ব্যাখ্যা দাবি করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, ‘ড. আইনুল ইসলামের জুলাই আন্দোলন বিরোধী অবস্থান এবং ৩ আগস্ট গণভবনের বৈঠকে অংশগ্রহণের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এসব বিষয়ে তার কাছে জবাব চাইলে তিনি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। জুলাইয়ের চেতনার বিপরীতে অবস্থান নেওয়া কোনো ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আজ (১৬ জুলাই), জুলাই শহীদ দিবস। জুলাই যোদ্ধারা ড. আইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে আন্দোলন করেছে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তিনি ডিন অফিস ত্যাগ করেছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কিছু অভিযোগ তুলে আমার অফিসে প্রতিবাদ জানায়। আমি পরিস্থিতি বিবেচনায় সসম্মানে অফিস ত্যাগ করি। ডিন হিসেবে আমার নিয়োগ সম্পূর্ণ আইনগতভাবে হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই পুরোনো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গণভবনের বৈঠকে আমি তৎকালীন রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রশাসনের নির্দেশে গিয়েছিলাম। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’
সময়ের আলো/কেএইচও