দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপে অপরিহার্য একটি নথি হলো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। অনেক সময় এনআইডির তথ্যগুলো অসাবধানতাবশত ভুল হয়ে যায়। এনআইডির নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম কিংবা ঠিকানায় কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য এখন আর নির্বাচনী অফিসে বারবার ঘুরতে হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে সহজ প্রক্রিয়ায় সংশোধন করা সম্ভব।
অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে ভোটার হতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে নিবন্ধন (সাইন আপ) করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে এনআইডি নম্বর, কার্যকর মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ এবং ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য।
নিবন্ধনের পর একজন ভোটার নিচের সেবাগুলো নিতে পারবেন-
১. প্রোফাইল তথ্য দেখা
২. ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা
৩. এনআইডির তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদের আবেদন
৪. ঠিকানা বা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন
৫. হারানো বা নষ্ট কার্ড পুনর্মুদ্রণের আবেদন
৬. ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট
৭. আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা (স্ট্যাটাস) দেখা
তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণের কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড করতে হবে। আবেদন চলাকালে ওয়েবসাইটেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
কার্ডের তথ্য কীভাবে সংশোধন করবেন?
অনলাইনে অথবা উপজেলা, থানা, জেলা নির্বাচন অফিস কিংবা এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইংয়ে আবেদন করতে হবে। ভুল তথ্য সংশোধনের পক্ষে যথাযথ দলিল সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
নামের বানান সংশোধনে কী লাগবে?
এসএসসি বা সমমানের সনদ, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সনদ, চাকরির প্রমাণপত্র, কাবিননামা এবং পিতা-মাতা বা স্বামীর এনআইডির কপি জমা দেওয়া যেতে পারে।
জন্মতারিখ পরিবর্তনের নিয়ম কী?
এসএসসি বা সমমানের সনদ থাকলে তার কপি জমা দিতে হবে। সনদ না থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দলিল দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনে তদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিয়ের পর স্বামীর নাম যুক্ত করবেন কীভাবে?
কাবিননামা ও স্বামীর এনআইডির কপি সংযুক্ত করে আবেদন করতে হবে।
তালাকের পর স্বামীর নাম বাদ দিতে কী করবেন?
তালাকনামা সংযুক্ত করে আবেদন করতে হবে।
ছবি পরিবর্তন করা যাবে?
হ্যাঁ। তবে ছবি পরিবর্তনের জন্য আবেদন করে নির্ধারিত সময়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
রক্তের গ্রুপ যুক্ত বা সংশোধন করবেন কীভাবে?
রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম কী?
বর্তমান বাসস্থানের সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। একই ভোটার এলাকার মধ্যে বানান বা তথ্যগত ভুল থাকলে সাধারণ সংশোধনের আবেদনেই তা করা যাবে।
কতবার সংশোধন করা যায়?
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, একই তথ্য সাধারণত একবারই সংশোধন করা যায়। তবে আবেদনটি গ্রহণযোগ্য হতে হলে উপযুক্ত প্রমাণপত্র থাকতে হবে।
সূত্র : বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
সময়ের আলো/জেডআই