দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সুযোগ নিশ্চিতে সরকারি তদবির কামনা প্রবাসীদের

আরব আমিরাত সংবাদদাতা

বিবিধ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ দুবাই) পরিবার ও বন্ধুদের জন্য ভিজিট ভিসার নিয়মাবলি স্পষ্ট

2026-07-19T16:55:03+00:00
2026-07-19T21:03:56+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
বিবিধ
দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সুযোগ নিশ্চিতে সরকারি তদবির কামনা প্রবাসীদের
আরব আমিরাত সংবাদদাতা
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৫ পিএম  আপডেট: ১৯.০৭.২০২৬ ৯:০৩ পিএম
আরব আমিরাতের পতাকা। সংগৃহীত ছবি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ দুবাই) পরিবার ও বন্ধুদের জন্য ভিজিট ভিসার নিয়মাবলি স্পষ্ট করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় দুবাইয়ের বৈধ বাসিন্দারা তাদের স্বজন ও বন্ধুদের স্বল্পমেয়াদী সফরের জন্য স্পনসর করতে পারবেন। এক বছরে সর্বোচ্চ ১২০ দিন পর্যন্ত থাকার সুযোগ থাকছে এই ভিসায়। 

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ ও প্রবেশাধিকারকে আরও নমনীয় করা হয়েছে। আবেদনকারীরা ৩০, ৬০ ও ৯০ দিন মেয়াদী সিঙ্গেল-এন্ট্রি এবং মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার মধ্যে বেছে নিতে পারবেন। সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসায় অনুমোদিত মেয়াদে একবার প্রবেশ করা যাবে, আর মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসায় মেয়াদ থাকাকালীন একাধিকবার প্রবেশ ও প্রস্থানের সুযোগ থাকবে, যা আঞ্চলিক ব্যবসায়িক সফর বা পর্যটনের জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক। অনুমোদন সাপেক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতর থেকেই ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

এক্ষেত্রে, জিডিআরএফএ দুবাই দর্শনার্থীর সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে তিন স্তরের ন্যূনতম বেতনসীমা নির্ধারণ করেছে। প্রথম-ডিগ্রি আত্মীয় (পিতা-মাতা, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান)-এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৪,০০০ দিরহাম। দ্বিতীয় ও তৃতীয়-ডিগ্রি আত্মীয় (ভাই-বোন, দাদা-দাদি/নানা-নানি, নাতি-নাতনি, চাচা, খালা, ফুফু, চাচাতো/মামাতো ভাইবোন)-এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৮,০০০ দিরহাম। বন্ধু বা অ-আত্মীয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাসিক বেতন ১৫,০০০ দিরহাম।

এই বেতনসীমা শুধুমাত্র ভিজিট ভিসার জন্য প্রযোজ্য; এটি দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্সি ভিসা নয়। স্পনসরের অবশ্যই বৈধ ইউএই রেসিডেন্স ভিসা ও এমিরেটস আইডি থাকতে হবে। বেতনের প্রমাণ হিসেবে বেতন সনদ, সত্যায়িত শ্রম চুক্তি অথবা ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের নথি গ্রহণযোগ্য। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন—স্পনসরের এমিরেটস আইডি ও পাসপোর্টের কপি, দর্শনার্থীর পাসপোর্টের কপি (আবেদনের তারিখ থেকে ন্যূনতম ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে) ও সাম্প্রতিক ছবি, আয়ের প্রমাণ ও বাসস্থানের প্রমাণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সত্যায়িত বৈবাহিক, জন্ম বা পারিবারিক সম্পর্কের সনদ প্রযোজ্য।


এক্ষেত্রে, জিডিআরএফএ নির্ধারিত প্রাথমিক ফি হলো: সিঙ্গেল এন্ট্রি ৩০ দিন— ২০০ দিরহাম, ৬০ দিন— ৩০০ দিরহাম, ৯০ দিন— ৪০০ দিরহাম। মাল্টিপল এন্ট্রি ৩০ দিন— ৩০০ দিরহাম, ৬০ দিন— ৫০০ দিরহাম, ৯০ দিন— ৭০০ দিরহাম। এই ফির সঙ্গে ভ্যাট, স্বাস্থ্য বীমা ও অন্যান্য সার্ভিস চার্জ যুক্ত হবে। এছাড়া ফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে সিঙ্গেল এন্ট্রির জন্য ১,০০০ দিরহাম এবং মাল্টিপল এন্ট্রির জন্য ২,০০০ দিরহাম জমা দিতে হবে।

দুবাইয়ের রেসিডেন্স ভিসাধারীরা জিডিআরএফএ দুবাই স্মার্ট সার্ভিসেস প্ল্যাটফর্ম, জিডিআরএফএ মোবাইল অ্যাপ, আমের সেন্টার বা কাস্টমার হ্যাপিনেস সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। ইউএই পাস দিয়েও অনলাইন আবেদন সম্ভব। বেশিরভাগ আবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রক্রিয়া করা হয় এবং ভিসা ইস্যুর তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমিরাতে প্রবেশ করতে হয়।

জিডিআরএফএ দুবাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্যাটাগরিতে চাহিদা ব্যাপক। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ২৯ হাজারের বেশি ভিজিট ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, যা জীবনযাপন, পর্যটন ও সামাজিক সংযোগের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে আমিরাতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।

অস্পষ্টতার কারণে এখানেই বাংলাদেশি প্রবাসী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য মূল প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে। জিডিআরএফএ দুবাইয়ের এই নতুন গাইডলাইনে জাতীয়তাভিত্তিক কোনো আলাদা তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে বাস্তবে বাংলাদেশিদের ভিজিট ভিসা প্রাপ্তি দীর্ঘদিন ধরে জটিলতার মুখে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা স্থগিতাদেশ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর রয়েছে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য তা বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ জানিয়েছেন, ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো খবরগুলো কোনো সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে নয়।

এই দ্বৈত পরিস্থিতিতে দুবাই-প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ প্রবাসীদের দাবি, যদি নতুন এই নমনীয় কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশিদের ভিজিট ভিসা পুনরায় পুরোপুরি চালু করা হয়, বা অন্তত ব্যবসা-বাণিজ্য, জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সফরের জন্য বিশেষ বিবেচনায় উন্মুক্ত করা হয়, তাহলে তা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

প্রবাসীদের মতে, সহজ ভিজিট ভিসা চালু হলে বৈধ পথে ব্যবসায়িক যাতায়াত বাড়বে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ক্রেতা-বিক্রেতা মিটিং ও পণ্য সোর্সিং করতে পারবে। জরুরি চিকিৎসা ও পারিবারিক পুনর্মিলন সহজ হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উচিত জিডিআরএফএ দুবাই ও ইউএই ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপের (আইসিপি) সঙ্গে জোর কূটনৈতিক তদবির চালানো, যাতে বাংলাদেশি নাগরিকরাও এই ঘোষিত সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   দুবাই  ভিজিট ভিসা  বাংলাদেশি 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: