কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৫০ টি পরিবার গত দশ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। টানা বৃষ্টিতে ওই এলাকার সরকারি একটি পুকুরের পানি উপচে পড়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই ) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ওই এলাকার পরিবারগুলোর প্রায় ২০০ সদস্য চরম বিপাকে পড়েছে। সেখানকার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ভেজা কাপড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।
উলিপুর পৌর শহরের একটি বিশাল অংশের পানি প্রায় ৫ একরের ওই সরকারি পুকুরে গিয়ে পড়ে। পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র ভেদ করে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের অবস্থান। এ সড়কের পশ্চিম দিকের পানি ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বুঁড়ি তিস্তায় গিয়ে পড়লেও পূর্ব দিকের বিশাল এলাকার পানি নিষ্কাশনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সেকেলে আমলের কতিপয় ড্রেনের মাধ্যমে পৌর শহরের পূর্ব অংশের পানি ওই সরকারি পুকুরে গিয়ে জমা হয়। সঙ্গত কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ বহন করে ওই এলাকাবাসী।
ওই এলাকার বাসিন্দা মমতাজুল হাসান করিমি জানান, মাত্র দেড় থেকে ২০০ মিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে পৌর শহরের পূর্ব অংশের পানি ওই ড্রেন দিয়ে মূল ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে আর কখনোই জলাবদ্ধতা তৈরি হবে না।
জলাবদ্ধ এলাকার রুবি বেগম, শিখা ও নূর কাশিম জানান, বহু আবেদন নিবেদন করার পরও পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের দিকে নজর দেন না। ফলে, প্রতি বছর বর্ষায় আমাদেরকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় ২০০ মিটার ড্রেন নির্মাণসহ পুকুরের পশ্চিম দক্ষিণ পাড় এলাকায় গাইডওয়াল দিয়ে আমাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি সুগম করলে এ দুর্ভোগের অবসান হবে।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় পৌরসভার অনেক কাজেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে ওই জলাবদ্ধতার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি. এম. আরিফ জানান, আমি রোববার সরেজমিন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছি। ওই এলাকার নাগরিকদের সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/মহু