রাজধানীর বনানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে উদ্ধার হওয়া মুখে স্কচটেপ লাগানো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তার নাম ইসমাইল হোসেন (৫০)। তার সঙ্গে থাকা জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিহতের ছেলে মো. হাসান বলেন, তাদের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামে। বর্তমানে তারা গাজীপুরের কাশিমপুরের করলাপাড়া এলাকায় থাকেন। তারা এক ভাই ও এক বোন। তার বাবা ইসমাইল ওই এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় ৯ মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন না।
হাসান আরও বলেন, আমার ছোট বোন শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। সামনে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করা হবে। এছাড়া আমাদের অনেক টাকা ঋণ ছিল। এজন্য প্রায় ৪ মাস আগে আমার বাবা আমাদের গাজীপুরে রেখে একা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন জমি বিক্রি করতে। বসতভিটার ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। সেই টাকা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেছেন। এরপর বাড়িতে ঘর দিয়েছেন। বাকি ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে তিনি গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকায় ফিরছিলেন।
হাসান আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল ইসমাইল হোসেনের। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, রাত ৩টার গাড়িতে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসান আশুলিয়ার জিরানি বাসস্ট্যান্ডে বাবাকে নিতে যান। তবে সেখানে গিয়ে বাবাকে বারবার ফোন করেও বন্ধ পান। পরে বাসায় ফিরে যান হাসান। এরপর শুক্রবার দুপুরে পুলিশের মাধ্যমে তারা খবর পান, তার বাবার মরদেহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর পাওয়া গেছে।
নিহতের ভাতিজা মো. মোকাদ্দেস বলেন, যেহেতু আমার চাচা জামালপুর থেকে গাজীপুর আসবেন, তাহলে তার ঢাকায় আসার কোনো কারণ নেই। আমাদের ধারণা, পথে কোনো ছিনতাইকারী বা কোনো চক্র তার সঙ্গে টাকা থাকার বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অপহরণ করে। এরপর তাকে হত্যা করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মরদেহ ফেলার নিরাপদ জায়গা হিসেবেই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে গেছে। এছাড়া অন্য কোনো কারণ আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।
এর আগে, শুক্রবার সকালে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে মুখে স্কচটেপ লাগানো ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আঙুলের ছাপ নিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে কোনো একটি গাড়ি থেকে তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/এমকে