বগুড়ার আদমদীঘিতে অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ১ হাজার ৬০০ বস্তা সার জব্দ এবং দুটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার নসরতপুর বাজারের ‘মেসার্স সজীব এন্টারপ্রাইজ’-এ অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সজীব সাহাকে এই দণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নসরতপুর বাজারের মেসার্স সজীব এন্টারপ্রাইজের দুটি গুদামে টিএসপি ও এমওপিসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে চাঁপাপুর পয়েন্টের বরাদ্দ করা সারও ছিল। কৃষকদের মাঝে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এসব সার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঘটনার সত্যতা পায়। পরে সার ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে সজীব সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১ হাজার ৬০০ বস্তা সার জব্দ করে দুটি গুদাম সিলগালা করা হয় এবং জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম জানান, দেশে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে উপজেলার সব সার ডিলার ও বিক্রেতাকে সতর্ক করা হয়েছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নে মেসার্স কাশেম এন্টারপ্রাইজে (স্বত্বাধিকারী এম এ কাশেম) একটি অভিযান চালানো হয়। সার পরিবহনের সময় চালক কোনো বৈধ ক্যাশ মেমো প্রদর্শন করতে না পারা এবং গুদামে মজুদ রাখা সারের সঠিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ার অপরাধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ও গুদামটি সিলগালা করেছিলেন।
সময়ের আলো/জোই