জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘৬ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই লংমার্চ দেশের সব বিভাগীয় শহরে যাবে। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতনের আন্দোলন সফল করেই আমরা ঘরে ফিরব।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি পান? কৃষকেরা কি সময়মতো সার পান? ব্যবসায়ীরা কি চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় দুর্নীতি আছে কি না-আছে? এসব সমস্যার সমাধান চান বলেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।’
কুমিল্লাবাসীর উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা কুমিল্লা বিভাগ চান। ১৯৯৪ সালে যখন সিলেট বিভাগ হয়, তখন একই সময়ে কুমিল্লাকেও বিভাগ করার দাবি উঠেছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা বিভাগ হয়নি, সিলেট বিভাগ হয়েছে। তাহলে কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী?’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলেছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর টালবাহানা করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ করুন এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন। পাশের জেলা নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ দাবি করছেন, তারাও দাবিদার। তাদেরও বিভাগ দিন। তবে, কুমিল্লা যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে বিভাগ দাবি করে আসছে, তাই কুমিল্লা বিভাগ আগে বাস্তবায়ন করুন।’
কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর করার বিষয়টি সামনে এসেছে। কুমিল্লায় একটি ইপিজেডও রয়েছে। বিমানবন্দরটি যাচাই-বাছাই করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে, আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন। মানুষকে প্রশাসনিক কাজে চট্টগ্রামে যেতে অনেক দূর যেতে হয়। বিভাগ হলে কুমিল্লার মানুষ এখানেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পাবে।’
কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীনের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক, নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আমির মামুনুল হক, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গণভোটের গণ রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।
সময়ের আলো/মহু