নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন যেন দীর্ঘদিনের অবহেলার সাক্ষী। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের ছাদ চুইয়ে প্ল্যাটফর্মে পানি পড়ে। কোথাও উঠে গেছে ইট, কোথাও তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। যাত্রীদের বসার নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। গরমে স্বস্তি দিতে নেই ফ্যান, রাতের বেলায়ও ঠিকমতো জ্বলে না স্টেশনের বাতি। দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশনটি এখন জরাজীর্ণ।
প্রতিদিন শত শত যাত্রী এ স্টেশন দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। আত্রাই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় এখানে যাত্রীসেবার মান নেমে এসেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, স্টেশনটির প্ল্যাটফর্ম এমনিতেই ছোট। এর ওপর প্ল্যাটফর্ম ও আশপাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দোকানপাট। এমনকি রেললাইন ঘেঁষেও বসেছে দোকান। ফলে ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ করলে যাত্রীদের ওঠানামায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এর সঙ্গে প্ল্যাটফর্মের তুলনায় ট্রেনের দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় অনেক সময় যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হয়।
স্টেশনের পাশেই রয়েছে মাছের আড়ৎ। সেখান থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধও যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় কফিল উদ্দিন মোল্লা বলেন, প্রতিদিন শত শত যাত্রী এ স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় স্টেশনটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। টিনে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে প্ল্যাটফর্ম ভিজে যায়।
তিনি বলেন, স্টেশনে ফ্যান না থাকায় গরমের সময় যাত্রীদের চরম কষ্ট হয়। পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় ট্রেনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রাতেও ঠিকমতো আলো জ্বলে না। বিশেষ করে ট্রেন বিলম্ব হলে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
আব্দুস সালাম, নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন স্থানীয়ের অভিযোগ, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও চত্বরে বিভিন্ন দোকান বসানো হয়েছে। রেলওয়ের জায়গাও দখল করে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এতে প্ল্যাটফর্মের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ট্রেন এলে যাত্রীদের স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
তাদের অভিযোগ, স্টেশনের বুকিং সহকারী সুব্রত কুমার আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে দোকান বসানো ও রেলওয়ের জায়গা দখলের সুযোগ করে দিয়েছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুকিং সহকারী সুব্রত কুমার। তিনি বলেন, অভিযান চালিয়ে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পরে তারা আবার স্থাপনা তৈরি করে দোকান বসায়। প্ল্যাটফর্মে কিছু অস্থায়ী দোকান অল্প সময়ের জন্য বসে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করে স্টেশনটির অবকাঠামো সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানগঞ্জে আধুনিক ও মানসম্মত রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি রেলওয়ের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
আত্রাই রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মমিন উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, রূপসা, তিতুমীর, নীলসাগর, দ্রুতযান ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসসহ ১৪টি ট্রেন আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে আপ-ডাউন করে। এ রেলপথে মোট ৩২টি ট্রেন চলাচল করে।
তিনি আরও বলেন, আত্রাই ও আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন একীভূত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।