প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের জাতীয় রাজনীতি। এ ঘটনার জের ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। এ সময় নজিরবিহীনভাবে বিক্ষোভস্থলে এসে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে ১০ রাজাজি মার্গ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের দিকে এগোলে পুলিশ বাধা দেয়।
এর আগে সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সংসদ ভবন অভিমুখে আয়োজিত এক মিছিলে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ওপর পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়। নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছিল দলটি। সিজেপির অভিযোগ, পুলিশের হামলায় অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন।
তবে দিল্লি পুলিশ পাল্টা অভিযোগে জানায়, বিক্ষোভকারীরা উগ্র ও সহিংস আচরণ করেছে। তারা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই সংঘর্ষে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া বর্বরতার জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির বাড়ির দিকে মার্চ করেছি। সরকার কোনো দায় নিতে চায় না, এমনকি সংসদে এ নিয়ে আলোচনাতেও তারা রাজি নয়। দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
কংগ্রেসের এই ঝটিকা কর্মসূচিতে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে দিল্লি পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
ক্ষমতাসীন বিজেপি অভিযোগ করেছে, কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। তবে কংগ্রেস সাংসদ মানিকম ঠাকুর এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন।
সময়ের আলো/কহু