ইয়েমেনের সৌদি বিমান হামলা ও ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
গত রোববার সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হুথিদের দাবি, সৌদি আরব পরিচালিত বিমান হামলার কারণে এই বিস্ফোরণ হয়েছে। অপরদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানায়, একটি ইরানি বিমান অবতরণ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এরই জবাবে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র এহিয়া সারে এক ভিডিও বার্তায় অবিলম্বে সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেন। এটাকে তিনি ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন।
হুথিদের প্রচার বিভাগের উপপ্রধান নাসরুদ্দিন আমির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, সৌদি আরবের গত ১০ বছরের ‘অন্যায্য অবরোধের’ জবাবে তাদের জন্য কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত মাত্র ২০ মাইল প্রশস্ত এই প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এবং বিশ্বজুড়ে কনটেইনারের এক-চতুর্থাংশ চলাচল করে।
এর আগে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের জের ধরে হুথিরা প্রায় একশরও বেশি জাহাজে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত করেছিল। তবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে সেই মাত্রার হামলা শুরু হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, সৌদি সামরিক বাহিনী কৌশলগত এই সমুদ্রপথ খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর যেকোনো হুথি হুমকি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও জলদস্যুতা হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/কহু