বস্ত্র অধিদপ্তরে আমিনুলের আধিপত্য, বাগিয়ে নিয়েছেন ১৫০ কোটি টাকার কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবিধ

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গত সাত বছরে রাজনৈতিক প্রভাব এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রায় ১৫০ কোটি

2026-07-22T00:54:41+00:00
2026-07-22T00:59:41+00:00
 
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
বিবিধ
বস্ত্র অধিদপ্তরে আমিনুলের আধিপত্য, বাগিয়ে নিয়েছেন ১৫০ কোটি টাকার কাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম  আপডেট: ২২.০৭.২০২৬ ১২:৫৯ এএম
আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৫০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। গ্রাফিক : সময়ের আলো
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গত সাত বছরে রাজনৈতিক প্রভাব এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সরকারি কাজ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম ও তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) চালু থাকলেও কৌশলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে অধিকাংশ কাজই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখত এই সিন্ডিকেট। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। তার নিয়ন্ত্রণাধীন তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘ঢাকা ট্রেডিং করপোরেশন’ ও ‘দারা টেকনোলজি বিডি লিমিটেড’ পরিচালনা করেন তার স্ত্রী রেখা ইসলাম এবং ‘এটিআই করপোরেশন’ পরিচালনা করেন আমিনুল নিজেই। রাজধানীর উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘দারা সেন্টার’ থেকে এই সিন্ডিকেটের পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর দায়িত্বকালে ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) ব্যবহার করে প্রতিযোগিতা ছাড়াই একের পর এক কাজ দেওয়া হয় ঢাকা ট্রেডিং ও এটিআই করপোরেশনকে। পরবর্তীতে উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) চালু হলেও ডিপিএমে পাওয়া পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি বানিয়ে কারিগরি মূল্যায়নে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দেওয়া হতো। সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও গোলাম দস্তগীর গাজীর সঙ্গে সখ্যতার জের ধরে আমিনুল পুরো দফতরে এই প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ।

এই সিন্ডিকেট তৈরিতে বস্ত্র অধিদপ্তরের তৎকালীন উপ-পরিচালক রাজু আহমেদ (বর্তমানে টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল), তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক মনসুর আহমেদ এবং সাবেক মন্ত্রীর এপিএস এমদাদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। রাজু আহমেদ ও আমিনুল একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হওয়ার সুবাদে দরপত্র-সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহ করা হতো। তবে রাজু আহমেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ‘আমার স্বাক্ষরে কোনো টেন্ডার হয়নি এবং আমিনুল নামের কোনো ঠিকাদারকেও আমি চিনি না।’

নথি অনুযায়ী, ভোলা, শেখ রাসেল (মাদারগঞ্জ), বেগম আমিনা মনসুর (সিরাজগঞ্জ) ও ফরিদপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে ২৬ কোটি টাকা করে এবং সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে ৩০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে এই গ্রুপ।
 
এছাড়া গোপালগঞ্জ ও টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের ৫টি বেসিক ও ট্রেনিং সেন্টারসহ মেহেরপুর, শান্তিগঞ্জ, মাদারীপুর ও জগন্নাথপুরের বিভিন্ন টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটেও তারা কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে।

অভিযোগ রয়েছে, টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমানে টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল) নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেও কমিশনিং সম্পন্ন না করেই প্রায় ৪৪ কোটি টাকা বিল তুলে নেয়। পরবর্তীতে তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মেলায় প্রকল্প পরিচালক মনসুর আহমদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং এটিআই করপোরেশনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে অভিযোগের পর আমিনুল তার স্ত্রীর নামে নতুন দুটি প্রতিষ্ঠান খুলে একই ধরনের কাজ চালিয়ে যান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এই সিন্ডিকেটের তৎপরতা থামেনি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিলেট ও মাদারীপুরে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট স্থাপনের চারটি বড় দরপত্রে রহস্যজনকভাবে শুধু ঢাকা ট্রেডিং করপোরেশনকে যোগ্য (রেসপন্সিভ) ঘোষণা করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ওই দরপত্র বাতিল করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার আমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বস্ত্র খাতের শত শত কোটি টাকার সরকারি কেনাকাটায় দীর্ঘদিনের এই সিন্ডিকেটবাজি ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষায় একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   বস্ত্র অধিদপ্তর  আমিনুল  আধিপত্য  বাগিয়ে নিয়েছেন  ১৫০ কোটি 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: