দেশের মৎস্য খাতকে আরও আধুনিক, টেকসই ও বাণিজ্যিকভাবে সক্ষম করে তুলতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস সরকার। প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক বাজার উপযোগী জলজ চাষ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী দেশটি।
‘ফুডটেকবাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ময়মনসিংহের তারাকান্দায় স্থাপিত অ্যাকুয়াকালচার সেন্টার অব এক্সেলেন্স উদ্বোধনকালে এ আগ্রহ ব্যক্ত করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, ‘ফুডটেকবাংলাদেশ’ বাংলাদেশে ডাচ ডায়মন্ড অ্যাপ্রোচের একটি সফল উদাহরণ। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৃষকদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সেন্টার অব এক্সেলেন্স প্রতিষ্ঠার ফলে মাছচাষিরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা পাবেন এবং তা মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ আস্থা বাড়বে এবং মৎস্য খাত আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, সীমিত জমি ব্যবহার করে কীভাবে অধিক উৎপাদন করা যায়, নেদারল্যান্ডস তার একটি অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের মৎস্য খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগের মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস এবং ফিশটেক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউল করিম ভূঁইয়া বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ফিশটেক বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মাছচাষিসহ প্রায় ২০০ জন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘অ্যাকুয়াকালচার সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ আধুনিক মাছ চাষ প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খামার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং মৎস্যজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘ফুডটেকবাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৬০টিরও বেশি পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮০০ জনের বেশি কৃষককে অনলাইন প্রশিক্ষণ এবং প্রায় ৬০০ কৃষককে সরাসরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি