মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী পরিচালিত ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত আনুমানিক ৩ হাজার ৭৫০ কোটি (৩৭.৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট হেগসেথ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মার্কিন সিনেটের অ্যারোপ্রিয়েশনস কমিটির এক শুনানিতে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
একই সাথে তিনি এবং যৌথ বাহিনীর প্রধান (জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ) জেনারেল ড্যান কেইন পেন্টাগনের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের বাজেট অনুমোদন চেয়েছেন, যার মধ্যে ইরান সংঘাত পরিচালনার জন্যই অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার কোটি (৭০ বিলিয়ন) ডলার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে দেওয়া এই খরচের হিসাব মূলত সরাসরি সামরিক পরিচালনা এবং আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গত মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ২৯ বিলিয়ন ডলারের আগের অনুমানের চেয়ে এই খরচ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধের মূল অর্থনৈতিক বোঝা বহুগুণ বেশি। আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণী সংস্থা ‘মুডি'স অ্যানালিটিক্স’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব হিসাব করলে এই যুদ্ধের অভ্যন্তরীণ পরোক্ষ ব্যয় এরই মধ্যে ১৫ হাজার কোটি (১৫০ বিলিয়ন) ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
সিনেটের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ স্বীকার করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্রমাগত হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর যৌথ অস্ত্র ভাণ্ডার ও গোলাবারুদে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে অবিলম্বে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন, যা দিয়ে রকেট মোটর, জেডিএএম গাইড বোমা, হাইপারসনিক অস্ত্র এবং ড্রোন-বিরোধী সক্ষমতা বৃদ্ধির উৎপাদন ত্বরান্বিত করা হবে।
সময়মতো বাজেট পাস না হলে মার্কিন বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত বা সংকোচন করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন পেন্টাগন প্রধান।
গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর পরিণতি ভোগ করার হুমকি দেন। এর পর টানা একাধিক রাত ধরে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
অন্যদিকে, ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও তার মিত্রদের ওপর কৌশলগত আঘাত অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি কুয়েত ও বাহরাইনের একাধিক বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। এছাড়া কৌশলগত প্রণালী হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথিরাও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
সিনেটে পেন্টাগনের বিশালাকার বাজেটের আবেদন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। সিনেটর প্যাটি মারে পেন্টাগনের এই যুদ্ধকৌশল ও বাজেটকে অস্পষ্ট উল্লেখ করে বলেন, সোজা কথায়, এই অর্থ বরাদ্দের আবেদন কোনো যৌক্তিক সীমারেখায় পড়ে না। মার্কিন জনগণকে একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/কহু