বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, ভাষা, বর্ণ বা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের সব মানুষের বৈচিত্র্য ও স্বকীয়তাকে ধারণ করেই এর বিকাশ ঘটেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউট্যাব জবি শাখার আয়োজনে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন বুঝতে হলে দেশের ইতিহাসের ধারাবাহিকতা অনুধাবন করতে হবে। ১৯৪৭ সালে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের জন্ম হলেও পরবর্তী সময়ে ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক রূপ লাভ করে। এর ধারাবাহিকতায় স্বাধিকার আন্দোলন, ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ সুগম হয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, একটি জাতির পরিচয় নির্ধারণে শুধু ধর্মীয় পরিচয় নয়; ভাষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক অধিকার ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি। যুদ্ধের সূচনালগ্নে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্ব জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল। পরবর্তীতে প্রবাসী সরকার ও মুক্তিবাহিনীর সংগঠিত সামরিক কাঠামোর মাধ্যমে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের সামনে জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন নতুনভাবে সামনে আসে। ধর্মভিত্তিক পরিচয়ের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বহুমাত্রিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা প্রবর্তন করেন, যা রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি তৈরি করে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল দর্শন হলো—বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় ‘বাংলাদেশি’। এই পরিচয় কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, ভাষা, বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী বা সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের সব ধর্মাবলম্বী, ভাষাভাষী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এই অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের অংশ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক দর্শন নয়; এটি বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি রাষ্ট্রকেন্দ্রিক জাতীয় পরিচয়ের ধারণা। এই দর্শনের মাধ্যমে দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সময়ের আলো/এসএকে