বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ভাসতে থাকা বিশাল আকৃতির রহস্যময় লাল রঙের ধাতব কাঠামো উদ্ধার করেছেন স্থানীয় জেলেরা। স্টিলের তৈরি বড় তেলের ট্যাংকের মতো দেখতে এই ধাতব বস্তুটি ঘিরে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দীপের সন্তোষপুর ইউনিয়নে জনতার মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সন্দ্বীপের সন্তোষপুর ইউনিয়নের বটগাছতলা ইলিশের ঘাটে বোটের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে কাঠামোটি টেনে নিয়ে আসেন জেলেরা। উদ্ধার করা বস্তুটি লম্বায় প্রায় ৩৫ ফুট এবং ব্যাস প্রায় ১০ ফুট। দীর্ঘদিন সমুদ্রে ভেসে থাকার কারণে এর ওপরের রং উঠে গেছে এবং অনেক জায়গায় মরিচা পড়েছে। বস্তুটির এক প্রান্তে মোটা লোহার কড়া বা হুক লাগানো আছে।
উদ্ধারকারী জেলে মো. যিশু ও কৃপা জলদাস জানান, মঙ্গলবার দিনের জোয়ারে সাগরে জাল ছড়ানোর সময় দূর থেকে বস্তুটি ভেসে আসতে দেখেন তারা। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও কাছে গিয়ে দেখেন এটি বিশালাকার তেলের ট্যাংকের মতো একটি ধাতব পাত্র। পরে এককভাবে টানা সম্ভব না হওয়ায় দুটি ট্রলারের মাধ্যমে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে সেটিকে টেনে ঘাটের কাছের একটি খালে এনে রাখা হয়।
এদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে রাত থেকেই ঘাটে ভিড় করতে শুরু করেন হাজারও মানুষ। বুধবার সকাল থেকেও সেখানে স্থানীয়দের আনাগোনা দেখা গেছে। চা দোকান ও বাজারে এখন এই রহস্যময় বস্তুটিকে কেন্দ্র করেই নানা গুঞ্জন চলছে। কেউ এটিকে কোনো বড় জাহাজ থেকে খসে পড়া তেলের ট্যাংকার বলছেন, আবার কারও ধারণা এর ভেতরে কোনো মালামাল থাকতে পারে।
ধাতব বস্তুটি আসলে কী- এ নিয়ে বিজ্ঞজনদের মধ্যেও ভিন্ন মত দেখা গেছে।
সীতাকুণ্ডের কুমিরা শিপইয়ার্ডের অভিজ্ঞ জাহাজভাঙা শ্রমিক নিজাম উদ্দিনের মতে, এটি হয়ত সমুদ্রগামী জাহাজের বিশাল আকৃতির ক্রেনে ব্যবহৃত কোনো প্রধান স্তম্ভ হতে পারে।
অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক নয়ন শীল ছবি দেখে এটি কোনো ড্রেজারের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করছেন।
বিআইডব্লিউটিএ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো কাঠামো ভেসে গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী জেলেরা জানিয়েছেন, কোনো লাভ বা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে তারা এটি আনেননি; উপযুক্ত প্রমাণসহ প্রকৃত মালিক এলে তারা এটি বুঝিয়ে দেবেন।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানান, সাগরে ভেসে আসা পুরনো ধাতব কাঠামোটি ঘাটে বাঁধাই করার খবর পুলিশ পেয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সঠিক মালিকানা দাবি করলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/মহু