শিশুরা আল্লাহর অমূল্য নিয়ামত। তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই নবী মুহাম্মদ (সা.) শুধু দৃশ্যমান বিপদ থেকেই নয়, অদৃশ্য অনিষ্ট থেকেও শিশুদের সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরই একটি হলো, সন্ধ্যা নেমে এলে বা রাতের প্রথম প্রহরে শিশুদের ঘরের ভেতরে রাখা। কিন্তু কেন এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন নবীজি (সা.)? এ বিষয়ে রয়েছে হাদিসে স্পষ্ট ব্যাখ্যা।
আমরা সাধারণত সন্তানদের আগুন, পানি, দুর্ঘটনা কিংবা অন্যান্য দৃশ্যমান ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করি। কিন্তু ইসলাম এর পাশাপাশি জিন-শয়তানের অনিষ্ট থেকেও শিশুদের সুরক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনার অন্যতম হলো, সন্ধ্যা নেমে এলে বা রাতের প্রথম প্রহরে শিশুদের ঘরের ভেতরে রাখা।
হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন রাতের আঁধার নেমে আসে বা সন্ধ্যা হয়, তখন তোমরা তোমাদের শিশুদের ঘরে আটকে রাখো। কেননা এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রাতের কিছু সময় অতিবাহিত হলে তাদের বাইরে যেতে দিতে পারো। আর তোমরা ঘরের দরজা বন্ধ করবে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করবে। কারণ, শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না।’ (বোখারি, হাদিস : ৩১২৮)
হাদিসটির ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, রাতের প্রথম প্রহরে শয়তানদের বিচরণ ও তৎপরতা বেড়ে যায়। এ সময় শিশুদের বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, তারা বয়সে ছোট হওয়ায় আল্লাহর জিকির-আজকারে অভ্যস্ত থাকে না এবং নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কেও সচেতন হতে পারে না। ফলে তারা অদৃশ্য অনিষ্টের ঝুঁকিতে বেশি থাকে।
এ কারণে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের ঘরে রাখা, দরজা-জানালা বন্ধ করা এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করা সুন্নতসম্মত আমল। আল্লাহর ইচ্ছায় এসব আমলের মাধ্যমে জিন-শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা লাভের আশা করা যায়।
তবে ইসলামের এই নির্দেশনা কোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং এটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা। তাই প্রয়োজন হলে আল্লাহর নাম নিয়ে, দোয়া পড়ে এবং যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে শিশুদের বাইরে নেওয়া যেতে পারে।
তথ্যসূত্র : বোখারি, হাদিস : ৩১২৮; ফাতহুল বারি ১১/৮৭, ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ,২৬/৩১৭।
সময়ের আলো/এসএকে