প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এই খাতের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন তিনি। বুধবার বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা পোশাক শিল্পের বিদ্যমান নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। পাশাপাশি খাতটির স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের বক্তব্য শোনেন এবং যেসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব সেগুলো নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অন্যান্য বিভাগের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এগুলোর অনেকই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। তবে যেসব সমস্যা এখনই সমাধান করা যায় সেগুলোতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার অবকাঠামো উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
সরকারপ্রধান বলেন, পোশাক শিল্পের বিকাশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই উন্নয়ন সম্পন্ন হলে দেশের অর্থনীতিতে আরও গতি আসবে এবং বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে যাবে। আমরা এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছি। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার এবার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজিএমইএর নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের বিকাশে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তা-ই করবে। ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধান করাও আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠক শেষে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। বিজিএমইএর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন এবং বিজিএমইএর অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বিদায়ি নৌবাহিনী প্রধানের : এদিকে একই দিনে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ি নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপুল। তিনি জানান, বিদায়ি নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিদায়ি নৌবাহিনী প্রধানের কর্মজীবনের সাফল্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাদার বাহিনী হিসেবে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে বিদায়ি নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব। পরে প্রধানমন্ত্রী বিদায়ি নৌবাহিনী প্রধানকে নিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করেন।
২০২৩ সালের ২৪ জুলাই নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ভাইস অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আরবিএন