পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির নতুন দুয়ার খুলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

পুঁজিবাজারে কোম্পানি তালিকাভুক্তির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী কোম্পানির

2026-09-17T03:02:45+00:00
2026-09-17T03:02:45+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অর্থনীতি
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির নতুন দুয়ার খুলছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
পুঁজিবাজারে কোম্পানি তালিকাভুক্তির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী কোম্পানির জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত কিন্তু নতুন অর্থের প্রয়োজন নেই— এমন কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে তালিকাভুক্তির সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এ জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের একটি নতুন কাঠামোর খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। বিএসইসির মতে, কোম্পানির প্রয়োজন ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তালিকাভুক্তির একাধিক পথ তৈরি হলে পুঁজিবাজারে সক্ষম ও ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বাজারের গভীরতা ও পরিধি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আইপিও ও প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

নতুন মূলধনের জন্য আইপিও : বিএসইসি জানিয়েছে, যেসব কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণের জন্য নতুন মূলধন প্রয়োজন, তাদের জন্য আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে প্রবেশের সুযোগ বিদ্যমান। এ ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’ অনুসরণ করে কোম্পানিগুলো আইপিওর আবেদন করতে পারবে।

বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে চায়, তাদের বিদ্যমান বিধিমালা মেনে আবেদন করার জন্য উৎসাহিত করছে বিএসইসি। ভবিষ্যতে আইপিও-সংক্রান্ত বিধিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে— এ কারণে আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত বা বিলম্ব করার প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে কমিশন।

বিএসইসির ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে আইপিওর বিধিমালায় কোনো সংস্কার, সংশোধন বা শিথিলতা আনা হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদন করা কোম্পানিগুলোও সেই সুবিধার আওতায় আসতে পারবে।

নতুন পথ ডাইরেক্ট লিস্টিং : আইপিওর বাইরে তালিকাভুক্তির আরেকটি সুযোগ হিসেবে ডাইরেক্ট লিস্টিং চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি মূলত এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির জন্য, যাদের ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণের জন্য নতুন মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। তবে এসব কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের হাতে থাকা শেয়ারের একটি অংশ বাজারে অফলোড করে কোম্পানিটিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে আগ্রহী হতে পারেন।

ডাইরেক্ট লিস্টিং ব্যবস্থায় কোম্পানিকে নতুন শেয়ার ইস্যু করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে না। বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমেই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ আইপিওর মাধ্যমে যেখানে কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করে, প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ে মূলত বিদ্যমান শেয়ার বাজারে আনার পথ তৈরি হবে।

২০২৬ সালের খসড়া বিধিমালা : ডাইরেক্ট লিস্টিং কার্যকর করতে ইতিমধ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে বিএসইসি। খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায়— এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির জন্য আলাদা একটি পথ তৈরি হতে পারে।

বাজারে কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য : বিএসইসি মনে করছে, তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়ানো গেলে পুঁজিবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। এতে বাজারে নতুন কোম্পানির উপস্থিতি যেমন বাড়বে, তেমনি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের সুযোগও তৈরি হবে।

কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামোয় মূলত কোম্পানির প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকাভুক্তির পথ আলাদা করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। যেসব কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ বা পরিচালনার জন্য নতুন অর্থ প্রয়োজন, তারা আইপিওর মাধ্যমে সেই অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ার অফলোড করে তালিকাভুক্ত হতে চান, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিং একটি বিকল্প হতে পারে।

বিএসইসির মতে, দুই ধরনের সুযোগের সমন্বয়ে পুঁজিবাজারে কোম্পানি আসার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে বাজার আরও গভীর ও বৈচিত্র্যময় হওয়ার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

কমিশন জানিয়েছে, দেশের পুঁজিবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে একটি গভীর, বৈচিত্র্যময়, স্বচ্ছ ও কার্যকর পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   পুঁজিবাজার  তালিকাভুক্তি  নতুন দুয়ার  অর্থনীতি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: