মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়িয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সুদহার এক-চতুর্থাংশ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছর আরও অন্তত একবার সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ফেডের নীতিনির্ধারকেরা।
ফেডের নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ১৮ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ১৬ জনই বছরের শেষ নাগাদ আরও এক দফা এক-চতুর্থাংশ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার বাড়ানোর পক্ষে। মাত্র দুজন মনে করেন, বর্তমান সুদহারেই থাকা উচিত।
ফেডের নীতিনির্ধারণী কমিটি বলেছে, মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বুধবারের সুদহার বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতিকে ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যে আরও দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে।
নতুন ফেডপ্রধান কেভিন ওয়ার্শও সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে, ভোক্তা ব্যয় স্থিতিশীল রয়েছে, উৎপাদনশীলতা বাড়ছে এবং বিনিয়োগও শক্তিশালী। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে আরও কঠোর মুদ্রানীতির প্রয়োজন হয়েছে।
ওয়ার্শ বলেন, শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে অর্থনীতির শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ব্যয় স্থিতিশীল, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মূলধনী বিনিয়োগও শক্তিশালী রয়েছে।
তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম সুদহার বাড়াল ফেড। একই সঙ্গে মে মাসের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়া ওয়ার্শের নেতৃত্বে এটিই ছিল প্রথম বড় নীতিগত পরিবর্তন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ফেডপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন এবং সুদহার কমানোর প্রত্যাশা প্রকাশ করেছিলেন।
ফেডের সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার অনেক কমিয়ে প্রায় ১ শতাংশে নামানোর দাবি জানিয়েছেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত।
এদিকে ফেডের সিদ্ধান্তের পর মার্কিন ডলারের দর বেড়েছে। দুই বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বাজারে বছরের শেষ নাগাদ আরও এক দফা সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।
ফেডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে নীতিসুদহার ৪ থেকে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। ২০২৭ সালের শেষেও একই পরিসরে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে ফেড। ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক অনুযায়ী, চলতি বছর মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা জুনের পূর্বাভাসের ৩ দশমিক ৬ শতাংশের চেয়ে বেশি। ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় মূল্যস্ফীতি ফিরতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে নতুন পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে, যা জুনে ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। বছরের শেষে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ফেড।
সময়ের আলো/কেএইচ