দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত সাফল্যের পর জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাংলাদেশকে দেখা গেল। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার, ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়, টি-টোয়েন্টির প্রথম ম্যাচেও ব্যর্থতা। শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে সফর শেষ করলেও সফরজুড়ে সবচেয়ে বড় হতাশার নাম ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। এই ব্যর্থতার পেছনে বাড়তি বাউন্স, অনুশীলন ম্যাচের অভাব এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। তার বিশ্বাস, এই সফরের অভিজ্ঞতা আগামী মাসের অস্ট্রেলিয়া সফর এবং ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
দেশে ফিরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আশরাফুল বলেন, জিম্বাবুয়ের উইকেটের অতিরিক্ত বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। তার ভাষ্যে, ‘বাড়তি বাউন্সে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগে গিয়েছে। টেস্ট ম্যাচে আমরা ভালো করতে পারিনি। পরে আমাদের তৃতীয় ওয়ানডেতে গিয়ে আমরা ওই অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে পেরেছি।’
তিনি মনে করেন, এই সফরের শিক্ষা ভবিষ্যতে কাজে দেবে, ‘আমি মনে করি, সামনে ২০২৭ বিশ্বকাপে আমরা হয়তো ওভাবে প্রস্তুতি নিতে পারব। এই সফরটা আমাদের অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও কাজে দেবে। এখানে যে বাড়তি বাউন্স এবং গত সাত মাস ধরে আমরা আমাদের ঘরের কন্ডিশনে ভালো করছিলাম, কিন্তু ভিন্ন একটা কন্ডিশনে আমাদের একটু সময় লেগে গিয়েছে।’
পুরো সফরজুড়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররা শর্ট বলের বিপক্ষে ছিলেন অসহায়। ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভার মতো লম্বা পেসাররা ধারাবাহিকভাবে বাউন্স কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রেখেছেন। লাল বল কিংবা সাদা বল, দুই সংস্করণেই একই দুর্বলতা বারবার সামনে এসেছে।
আশরাফুলের মতে, জিম্বাবুয়ে সফরের আরেকটি বড় সমস্যা ছিল প্রস্তুতি ম্যাচের অভাব। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে আর অনুশীলন ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকে না।
তিনি বলেন, ‘ওয়ানডে সিরিজটা আমরা খুব সিরিয়াসলি নিয়েছিলাম, যেহেতু পয়েন্টের (র্যাঙ্কিং) একটা ব্যাপার ছিল। সেই জায়গায় মোস্তাফিজসহ সবাই ছিল। কিন্তু তারা ইনজুরির কারণে খেলতে পারেনি, দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে মোস্তাফিজ খেলতে পারেনি।’
আবহাওয়া ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার কারণ উল্লেখ করে আশরাফুল বলেন, ‘আবহাওয়া, কন্ডিশন... জিম্বাবুয়েতে যখনই আমরা যাই, এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর আগে প্র্যাকটিস ম্যাচ হয় না। একটা তিন দিনের ম্যাচ বা ওয়ানডে ম্যাচ হলে অ্যাডজাস্টমেন্ট করাটা সহজ হতো। ওই অপশনটা এখন নেই, (সফরে) গিয়েই খেলতে হয়। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বাড়তি সময়, যদিও আমাদের টেস্ট দল এবং ওয়ানডে দলের ক্রিকেটাররা আগে গিয়েছিলেন, কিন্তু অনুশীলন ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না। ওটা হলে মূল ম্যাচগুলোর ফল আমাদের পক্ষেই থাকত।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন ব্যাটিং ব্যর্থতা অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালের সফরেও ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল বাংলাদেশের। এবারও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হওয়ায় ব্যাটিং কোচ হিসেবে আশরাফুলের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তবে সমালোচনায় বিচলিত নন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক, ‘এগুলোতে (সমালোচনায়) আমার প্রতিক্রিয়ার কিছুই নেই। গত সাত মাস ধরে আমাদের ব্যাটাররা খুবই ভালো করছেন। একটা সিরিজ খারাপ হতেই পারে। একটা টেস্ট ম্যাচ খারাপ হয়েছে, এর আগের চারটা টেস্ট ম্যাচেই অসাধারণ খেলেছেন আমাদের ব্যাটসম্যানরা। আমি চেষ্টা করছি আমার জায়গায় সেরাটা দেওয়ার জন্য।’
আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ। সেই সিরিজ নিয়ে আশাবাদী আশরাফুল, কারণ এবার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে দল, ‘অস্ট্রেলিয়াতে দুটি ঐতিহাসিক টেস্ট আছে অনেক বছর পরে। সেখানে কঠিন হবে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, আমরা ১০-১২ দিন আগে যাচ্ছি, একটা তিন দিনের ম্যাচ (প্রস্তুতি) খেলার সুযোগ আছে। আশা করব, সবাই সুস্থ থাকলে দুটিতে আমরা ভালো করার চেষ্টা করব।’
জিম্বাবুয়ে সফরের হতাশা পেছনে ফেলে এখন অস্ট্রেলিয়ার কঠিন পরীক্ষার দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। আর সেই চ্যালেঞ্জে ঘুরে দাঁড়াতে বাড়তি প্রস্তুতি ও বিদেশের কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার বিকল্প দেখছেন না ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল।
সময়ের আলো/আরবিএন