ইরানের জন্য নিষিদ্ধ হলেও একই অঞ্চলের অপর দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব শিগগির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পেতে যাচ্ছে। রিয়াদকে এই সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে ওয়াশিংটন। মার্কিন সময় বুধবার এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দুই সূত্রের বরাত দিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ওয়াশিংটন সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। শুধু তাই নয়, ঐতিহাসিক চুক্তিটির ঘোষণা বুধবার দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
মূলত পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মাঝেই এই উদ্যোগের খবর এলো। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ কাটাতে প্রায় ৫ মাস ধরে প্রধান মিত্র ইসরাইলকে নিয়ে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান দেশটি। এমনকি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর আবারও তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু প্লান্টগুলোয় হামলার হুমকি দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু চুক্তি সই করে তা ঘোষণার পরিকল্পনা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে এমন একটি ধারা থাকছে, যার আওতায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তিটি কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে এটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে না। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার দাবি করে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তিকে তাদের বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
এর আওতায় সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০০৯ সালে সৌদি আরবের প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে আমিরাতের এখনও কোনো নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ উদ্যোগ নেই। আরব বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নাম বারাকাহ পারমাণবিক কেন্দ্র। গত মে মাসে আরব আমিরাতের এই পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে একটি জেনারেটরে ড্রোন হামলা হয়। এতে আগুন লেগে যায়। নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে, তবে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে এ ধরনের অস্ত্র নির্মাণের হিড়িক পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সবার আশঙ্কা, এই সংঘাত গোটা অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
চলতি সপ্তাহে তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের বন্দরগুলো অবরোধ করবে। এ ধরনের অবরোধ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত সপ্তাহে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়, যা ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের দ্বিতীয় দফা হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত হুথি বিদ্রোহীরা এই সংঘাতের বাইরে ছিল।
সময়ের আলো/আরবিএন