সিআইএ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা : ইরানকে রাশিয়া সাহায্য করছে কি না, খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএ’র বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানের চালানো নিখুঁত ড্রোন হামলায় রাশিয়া কোনো ধরনের টার্গেটিং তথ্য বা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি

2026-07-23T18:41:19+00:00
2026-07-23T18:41:19+00:00
 
  রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সিআইএ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা : ইরানকে রাশিয়া সাহায্য করছে কি না, খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএ’র বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানের চালানো নিখুঁত ড্রোন হামলায় রাশিয়া কোনো ধরনের টার্গেটিং তথ্য বা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের বিষয়ে অবগত চার ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, সিআইএ’র স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রুশ সম্পৃক্ততা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তবে হামলাগুলোর কার্যকারিতা, নিখুঁত নিশানা এবং ইরানের প্রতি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তাকে সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে রয়টার্সসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে আসছে রাশিয়া। তবে সিআইএ’র স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার এই তদন্তের বিষয়টি আগে প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে সিআইএ’র অন্তত দুটি গোপন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে একটি ছিল সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে থাকা সিআইএ স্টেশন এবং অন্যটি ছিল পূর্ব ইরাকে অবস্থিত একটি আলাদা ঘাঁটি। কিছু সূত্র জানিয়েছে, সিআইএ’র আরও কিছু ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছিল, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।


নথি দেখার সুযোগ রয়েছে এমন এক কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তা মেমোটির নির্দিষ্ট রচয়িতার নাম প্রকাশ করেননি।

উপসাগরীয় অঞ্চলে নিয়োজিত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে তাদের দেওয়া ব্রিফিংয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌদি আরবে হামলায় শাহেদ ড্রোনের উন্নত দুটি রুশ সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্যমতে, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাসের বাইরের দেয়ালের একটি দুর্বল অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গর্ত তৈরি করে। এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে গত সপ্তাহে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সেনা ব্যারাক লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এতে অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এই ঘটনার পর ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে রাশিয়া সহায়তা করছে এমন আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানকে স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ‘কোমেটা-এম’ সরবরাহের মাধ্যমে তাদের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নিখুঁত নিশানাভেদের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে রাশিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তুলনায় এই ব্যবস্থা অনেক বেশি নির্ভুল এবং জ্যাম করা বা বাধাগ্রস্ত করা কঠিন।

তবে ইরানকে সমরাস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি রাশিয়া।

সময়ের আলো/আরবিএন 
  বিষয়:   ইরান  রাশিয়া  যুক্তরাষ্ট্র 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: