একসময় লেবাননে হিজবুল্লাহর সদস্যদের মধ্যে ভয়ের কারণ ছিল যে পেজার, সেই পেজারই এবার হাতে তুলে নিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জায়গাটা অবশ্য লেবানন নয়, জাতিসংঘের মঞ্চ। পেজারটি দেখিয়ে হয়তো করতালি শোনার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু হলো ঠিক উল্টো। তার বক্তব্য শুরুর আগেই তাকে উপহাস করে অধিবেশনকক্ষ ছাড়তে শুরু করেন বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি। এরপর অধিবেশনকক্ষে শোনা যায় প্রতিবাদের আওয়াজ, সঙ্গে ছিল কটাক্ষও। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু।
এ সময় ২০২৪ সালে লেবাননে হিজবুল্লাহর সদস্যদের ব্যবহৃত হাজার হাজার পেজার বিস্ফোরণের ঘটনা মনে করিয়ে দিতে তিনি একটি পেজার হাতে তুলে ধরেন। তবে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুরু হওয়ার আগেই অধিবেশনকক্ষ ছাড়তে শুরু করেন বিভিন্ন দেশের অনেক প্রতিনিধি। এতে কক্ষের বড় একটি অংশ ফাঁকা হয়ে যায়। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নিজস্ব প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
পরে অধিবেশনকক্ষ ছেড়ে যাওয়া প্রতিনিধিদের সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এরপর পেজারটি হাতে তুলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘বিপারগুলোর কথা মনে আছে? আমি আপনাদের বলতে পারি, হিজবুল্লাহ অবশ্যই সেগুলো মনে রেখেছে।’
এর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবাননে হিজবুল্লাহর সদস্যদের ব্যবহৃত হাজার হাজার পেজার একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। এর পরদিন সংগঠনটির ব্যবহৃত ওয়াকিটকিতেও বিস্ফোরণ ঘটে। দুই দিনের এসব বিস্ফোরণে বহু মানুষ নিহত হয় এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়। হিজবুল্লাহ এ ঘটনার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছিল। তবে, ইসরাইল ওই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হিজবুল্লাহর কাছে পৌঁছানোর আগেই পেজারগুলোর ভেতরে বিস্ফোরক ও তা সক্রিয় করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে, বিশেষ সংকেত পাঠিয়ে এসব পেজার বিস্ফোরিত করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রের প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবে, ঠিক কীভাবে পেজারগুলোর ভেতরে এসব ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং কীভাবে সেগুলো বিস্ফোরিত করা হয়, তার পুরো প্রক্রিয়া তখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ইসরাইলি গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়াতে মোবাইল ফোনের বদলে পেজার ব্যবহার করত হিজবুল্লাহ। মোবাইল ফোনের অবস্থান সহজেই শনাক্ত করা যায় বলে সংগঠনটি পেজারকে তুলনামূলক নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা মনে করত। তবে, ২০২৪ সালের বিস্ফোরণের পর পেজারের সে নিরাপত্তা নিয়েই বড় প্রশ্ন ওঠে।
বিস্ফোরিত পেজারের অংশে তাইওয়ানের কোম্পানি গোল্ড অ্যাপোলোর নাম পাওয়া গেলেও প্রতিষ্ঠানটি ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। কোম্পানিটি জানায়, হাঙ্গেরিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে তাদের ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে পেজার তৈরি করা হয়েছিল। তবে, হাঙ্গেরির ওই প্রতিষ্ঠানও ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। পরে এর এক দিনের মধ্যেই হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ওয়াকিটকিতেও বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরিত কিছু ওয়াকিটকিতে জাপানের আইকমের নাম পাওয়া যায়। তবে আইকম জানায়, ওই মডেলের উৎপাদন ১০ বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বিস্ফোরিত যন্ত্রগুলো আসলে কোথা থেকে এসেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি