মিয়ানমারে সংঘটিত রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান ঐতিহাসিক মামলার রায় অক্টোবরে ঘোষণা হতে পারে বরে জানা গেছে। গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ জালো আইসিজেতে চলমান এই মামলার রায় সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দ্রুতই আদালতের কাছ থেকে বহুল প্রতীক্ষিত রায় আশা করা হচ্ছে।
আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে মামলা করে। মূলত ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সমর্থনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়া মামলা করে। মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে গাম্বিয়া।
মামলায় বলা হয়, হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ফলে জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে অন্তত সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা। সেই কারণে, মূল বিচার শুরুর আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইসিজের কাছে আবেদন করা হয়।
নেদারল্যান্ডসের হেগে অভিযোগের ওপর শুনানি চলে। শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে অংশ নেন দেশটির নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। শুনানিতে মিয়ানমারে কোনো গণহত্যার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। যদিও বিচারের রায় কার্যকর করার ক্ষমতা আদালতের নেই।
সময়ের আলো/কেএইচও