গাজা শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই সবচেয়ে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল-থানি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ানে আমানপোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থী সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থেই গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার ভাষায়, একজনের লাভের জন্যই পুরো বিষয়টি আটকে আছে।
আল-থানি বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে মিসরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে শারম আল-শেখ চুক্তি হওয়ার পরও ইসরায়েল ওই চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি।
তিনি দাবি করেন, চুক্তিতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কথা থাকলেও বর্তমানে উপত্যকার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে হামলা অব্যাহত আছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৬০০টি মানবিক সহায়তার ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা থাকলেও বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৫০টি ট্রাক প্রবেশ করছে।
তিনি বলেন, চুক্তির বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েলের প্রতি চাপ দেওয়া হলে দেশটি বারবার তা অস্বীকার করে বিপরীত পথে এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্যস্থতাকারীরা শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে কাজ করলেও নেতানিয়াহু সরকারের নানা পদক্ষেপ এতে বড় বাধা তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের কথিত ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারি নিয়েও কথা বলেন আল-থানি। বিষয়টিকে তিনি অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এমন কাজে কাতারের অর্থ ব্যয় করা হলে সেটি হতো দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ বিনিয়োগ। তিনি একই সঙ্গে কাতারের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি রাজনৈতিক মহলে অর্থ দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সময়ের আলো/জেডি