হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের দেওয়া সাত দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করছেন না।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের পরিকল্পনা পাঠিয়েছে তেহরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।’ ইরানের প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
আরাঘচির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পর সাত দিনের সময়সীমা শুরু হওয়ার কথা। প্রথম কয়েক দিনে সামরিক সংঘাত বন্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা রয়েছে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব রয়েছে।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে ছিল দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদের একটি অংশ ছেড়ে দেওয়া। একই সঙ্গে ইরান পুরো অঞ্চলে, লেবাননসহ, যুদ্ধবিরতির কথাও বলেছে।
এর বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার এবং এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ইরানের প্রস্তাবে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা শুরু করার আগে হরমুজ পুনরায় চালুর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আরাঘচি জানিয়েছেন, নতুন রোডম্যাপটি মূলত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতার কাঠামোর ভিত্তিতে তৈরি। তবে এবার দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তে সাত দিনের মধ্যে ধাপগুলো বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বৈঠক না হলেও কাতারের মধ্যস্থতায় বার্তা আদান-প্রদান চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হওয়া আলোচনাকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন।
তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো তেহরানের প্রস্তাবের সঙ্গে মিলছে না। মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন তাড়াহুড়ো করছে না।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বিমান হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব সামনে এলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধানের পথ এখনো স্পষ্ট হয়নি। তেহরান দ্রুত সমঝোতার কাঠামো দিয়েছে, আর ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করায় দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্যই আপাতত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলো/এসএকে