বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে পাহাড় ও সমতলে লাগাতার বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানিস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গজলডোবার তিস্তা ব্যারেজ থেকে দফায় দফায় পানি ছাড়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বেশকিছু জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গজলডোবা তিস্তা ব্যারেজ থেকে ছাড়া পানি জলপাইগুড়ি ওপর দিয়ে বয়ে চলায় তিস্তার পানিস্তরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যার কারণে জলপাইগুড়ি জেলার খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সুকান্ত নগর কলোনির খাল থেকে পানি ঢুকে ব্যাপক জলমগ্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া জগন্নাথপুর, বাঘপোতা, মানসতলা গ্রামে নিচু এলাকাগুলো দ্রুত তিস্তার পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে তিস্তার পানি ঢোকার কারণে রাস্তা, চাষের জমি, ফুটবল খেলার মাঠে হাঁটুসমান পানি।
জগন্নাথপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি বসতবাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। হঠাৎ করে তিস্তার নদীর পানি বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তিস্তা নদীর পানিস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কায় তীব্র আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় রয়েছে গ্রামের মানুষ। স্থানীয় কৃষকরা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। চাষের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। গ্রামের রাস্তায় তিস্তার পানি উপচে পড়ার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা অনিল সামন্ত জানিয়েছেন, নিম্নচাপের কারণে গত কয়েক দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে গত বৃহস্পতিবার থেকে জলটা বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের জগন্নাথপুর ছোট ও বড় অঙ্গনার কিছু অংশ হয়ে মনসাতলার নিচু এলাকায় দ্রুত জল ঢুকছে। এই সময় ধান বোনার সময়। এই বন্যার কারণে পুরো চাষটাই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। রাস্তার ওপর দিয়েও জল বয়ে যাচ্ছে, ফলে ঝুঁকি নিয়েও যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এ ছাড়া অনেক বাড়ির ভেতরে জল ঢুকে পড়েছে। অপর আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিকুর রহমান জানিয়েছেন, নিম্নচাপের কারণেই এই জল বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল থেকে আমরা কেউই কাজের জন্য বেরোতে পারছি না। পুরো মাঠ, চাষের জমি, রাস্তায় জল উঠে গেছে। চাষের জমিতে যত ধান ছিল সবই জলের তলায় ডুবে গেছে। এখন আমরা খাব কী? সব কিছুই পচে যাচ্ছে জলের কারণে। এভাবেই রাস্তাঘাটে যাতায়াত করতে হচ্ছে আমাদের।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি