জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক অনশন চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তিন বছর আগের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নতুন করে ভাইরাল হয়েছে।
ওই পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান সোনম ওয়াংচুক এবং তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমোর শিক্ষা সংস্কারে অবদান, চিন্তাভাবনা এবং নিষ্ঠার প্রশংসা করেছিলেন।
তিন বছর আগে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছিলেন, "শ্রী ওয়াংচুক এবং তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমো জির সঙ্গে চমৎকার আলোচনা হলো। শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর, অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা, উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে তাদের নিষ্ঠা, চিন্তাভাবনা ও উদ্যোগকে আমি প্রশংসা করি।"
বর্তমানে সোনম ওয়াংচুক যখন ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন বিজেপি নেতার এই পুরোনো পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত প্রায় এক মাস ধরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে হাজারো আন্দোলনকারী দিল্লির যন্তর-মন্তরে অবস্থান করছেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অভিযোগ
২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অভিযানের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কংগ্রেসের সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং তাদের প্রকৃত সমস্যার সমাধান না করে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য আসে, যখন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হন।
মেডান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে সোনম ওয়াংচুককে
গত সপ্তাহে যন্তর-মন্তর থেকে আটক করে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সোনম ওয়াংচুককে। পরে দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতির পর তাকে গুরগাঁওয়ের মেডান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ওয়াংচুক এবং তার পরিবারের অভিযোগ, তাকে নয়াদিল্লির সফদরজং হাসপাতালে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৮ জুন থেকে সোনম ওয়াংচুক আমরণ অনশন পালন করছেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ