ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ভারতের রাজধানী দিল্লি। গত ১৮ জুলাই থেকে চলমান ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এবার তারা শুক্রবারে পশ্চিমবঙ্গেও তাদের আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করতে কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছে সংগঠনটি।
প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্য থেকে জন্ম নেওয়া সিজেপি ছড়িয়ে পড়েছে সারা ভারতে। রাজধানীর রাস্তায় প্রতিবাদ, অনশন, সংসদ অভিমুখে মিছিল, পুলিশি ধরপাকড়— সব মিলিয়ে গত তিন মাসে আন্দোলনটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মে মাসে শুরু
সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের ককরোচ ও পরজীবীর সঙ্গে তুলনা করেন। পরদিনই বস্টনপ্রবাসী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে একটি দল চালু করেন।
তরুণদের উদ্দেশে করা ওই অপমানজনক মন্তব্যকেই তারা নিজেদের পরিচয়ে পরিণত করে।
মাসজুড়ে বাড়তে থাকে জনপ্রিয়তা
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। যা বিজেপি বা কংগ্রেসের নিজস্ব অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যার চেয়েও বেশি। সরকারের বিরুদ্ধে সিজেপির ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে অভিজিৎ দিপকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং সিজেপির ইনস্টাগ্রাম হ্যাক হওয়ার দাবিও করা হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র ও প্রাক্তন সাংসদ কীর্তি আজাদের মতো নেতারাও প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
জুন মাসে প্রথম জমায়েত
দিল্লির যন্তর-মন্তরে সিজেপির প্রথম পথসভা ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একজোট হয়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও সিবিএসই মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। সেদিনই সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
পতাকা হাতে আন্দলনকারীরা। ছবি : ডয়েচে ভেলে
প্রকাশিত হলো ইশতেহার
পুনেতে প্রকাশ করা হয় পাঁচ দফা দাবিসংবলিত 'পরীক্ষা ইশতেহার'। এতে প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং ফল প্রকাশ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে জয়পুর, লখনউ, অমৃতসর, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদে। পরে যন্তর-মন্তরে দ্বিতীয় বড় সমাবেশে থালা-বাসন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।
অনশনে সোনম ওয়াংচুক। ছবি : ডয়েচে ভেলে
যোগ দিলেন সোনম ওয়াংচুক
জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুক যন্তর-মন্তরের আন্দোলনস্থলে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। তাঁর যোগদানের পর আন্দোলনটি নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি আন্দোলনের নতুন মোড়
১৮ জুলাই টানা ২০ দিনের অনশনের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে জোর করে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। সিজেপির অভিযোগ, এটি করা হয় তার বা তার পরিবারের সম্মতি ছাড়াই। সংগঠনটি এই ঘটনাকে 'জোরপূর্বক অপহরণ' বলে অভিহিত করে। এরপর অভিজিৎ দিপকে নিজেও অনশনে বসার ঘোষণা দেন।