যে দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

চলমান অর্থনৈতিক সংকট, প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সরকারি কর্মচারীদের

2026-07-23T23:00:22+00:00
2026-07-23T23:00:22+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
যে দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
চলমান অর্থনৈতিক সংকট, প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল। একই সাথে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার বিষয়ে এখনই শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না সরকার।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পুরো বেতন ও ভাতা একবারে না বাড়িয়ে দুই ধাপে তা বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাবনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। কৌশল হিসেবে প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয় ধাপে আনুষঙ্গিক অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর পর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বা ভাতা পুনর্বিবেচনার কথা থাকলেও গত এক দশকে নতুন কোনো পে স্কেল কার্যকর করা হয়নি। ফলে সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলছেন অর্থনীতি ও জনপ্রশাসন বিশ্লেষকেরা। যদিও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সরকারের জন্য একটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এ বিশাল জনগোষ্ঠী পরিবর্তিত কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সুবিধাসহ মোট প্রশাসনিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

তবে সংশ্লিষ্ট অর্থ বিভাগের হিসাবমতে, নবম পে স্কেল পুরোদমে কার্যকর করতে গেলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন পড়বে। বর্তমান রাজস্ব আহরণের দুর্বলতায় এই বিপুল অঙ্কের সংস্থান করা বেশ কঠিন, যা ঘাটতি বাজেট ও সরকারের অর্থব্যবস্থার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, আইএমএফ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, একসঙ্গে ঢালাওভাবে বেতন বাড়ালে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়বে, যা মূলত মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। একই সাথে আশানুরূপ রাজস্ব না বাড়লে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর সরকারের ওপর নির্ভরতা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাবে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি আগের অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের নানা সীমাবদ্ধতা এবং নতুন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে একাধিক বৈঠক সম্পন্ন করেছে।


সূত্র জানিয়েছে, আর মাত্র দুই থেকে তিনটি কারিগরি বৈঠকের পর সচিব কমিটি তাদের খসড়া প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পেশ করবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্টের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নবম পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট জারি হতে পারে।

গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও নতুন বর্ধিত বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর বলে গণ্য করা হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর সরকারি চাকরিজীবীরা নির্ধারিত বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি পুরো মেয়াদের বকেয়া অর্থও এককালীন পেয়ে যাবেন।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   দুই কারণ  আটকে  নতুন পে স্কেল  সরকার 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: