আন্দোলনের মধ্যেও উত্তরাখণ্ডে প্রশ্নফাঁস, মোদীর ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বিচারের আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

প্রশ্ন ফাঁস ঘিরে দিল্লিতে আন্দোলনের আবহেই এবার বিজেপিশাসিত উত্তরাখণ্ডের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠল। এর জেরে বাতিলও হল দুইটি পরীক্ষা।

2026-07-24T03:06:04+00:00
2026-07-24T03:06:04+00:00
 
  শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬,
৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আন্দোলনের মধ্যেও উত্তরাখণ্ডে প্রশ্নফাঁস, মোদীর ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বিচারের আশ্বাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৬ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
প্রশ্ন ফাঁস ঘিরে দিল্লিতে আন্দোলনের আবহেই এবার বিজেপিশাসিত উত্তরাখণ্ডের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠল। এর জেরে বাতিলও হল দুইটি পরীক্ষা। সূত্রের খবর, দেরাদুনের বীর মাধো সিংহ ভান্ডারী উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা চলছিল। এরই মধ্যে দুইটি পত্রের প্রশ্নফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

পরীক্ষা নিয়ামক ভিকে পটেল জানিয়েছেন, ‘মেশিন লার্নিং ফর ইন্টারনেট অফ থিংস’ বিষয়ের প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তার পরই নড়ে বসেন কর্তৃপক্ষ। তদন্তে দেখা যায়, বাইরে থেকে যে অধ্যাপক প্রশ্ন করেছিলেন তিনিই হুবহু একই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দিয়েছেন পড়ুয়াদের মধ্যে। শুধু তা-ই নয়, ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থিয়োরি’ বিষয়ের প্রশ্নও ফাঁস হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। তারপরই দুইটি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার চাপের মুখে পড়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি, কেন্দ্র চাইছে নিট প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলনের আয়োজক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সঙ্গে আলোচনায় বসতে। আলোচনা চাইছে সিজেপি-ও। কিন্তু সেই আলোচনা এখনও থমকে রয়েছে। একই ভাবে থমকে রয়েছে কেন্দ্রের তরফে বিরোধীদের দেওয়া প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে সংসদে আলোচনার প্রস্তাবও। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি থেকে সরতে রাজি নয় তারা। এই আবহেই বৃহস্পতিবার টানা চতুর্থ দিন শাসক ও বিরোধীপক্ষের বিতর্কের জেরে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় বাদল অধিবেশন মুলতুবি হয়েছে। এরই মধ্যে অনশনকারী সমাজসৈনিক তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলন ঘিরে মারধরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কেন্দ্র আলোচনার বার্তা দিলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা কিন্তু স্তিমিত হয়নি। বুধবার (২২ জুলাই) রাতে পুলিশের উপর ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর। অন্যদিকে, গত সোমবারের অশান্তির ঘটনায় আন্দোলনকারীদের একাংশের পাসপোর্ট বাতিলের তৎপরতাও শুরু হয়েছে বলে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি। প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের স্মরণে দিল্লির গান্ধী স্মৃতির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদ ও নেতারা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যাত্রা শুরুর পরেই তারা দিল্লি পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। তার আগে রাহুলের বাংলোর সামনে পুলিশি ব্যারিকেড বসানো নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়।

শান্তির বার্তা সোনমের
বুধবার রাতে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে নতুন করে অশান্তি এবং পুলিশি অভিযানের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার অনশনের ২৬তম দিনে সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, শান্তি, আর শুধুই শান্তিই আমার পথ। যতক্ষণ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রয়েছে, ততক্ষণ আমি গভীরভাবে ব্যথিত যে অন্যত্র কিছু সমাজবিরোধী শক্তি এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে হিংসা উস্কে দিচ্ছে। অন্য পক্ষ যা-ই করুক না কেন, জবাবে আমরা ওদের ফুল দেব। যে কোনও মূল্যে অনুগ্রহ করে এই ঐতিহ্য বজায় রাখুন।

সক্রিয় ইন্ডিয়া জোট, তৎপর পুলিশ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘তিস জানুয়ারি মার্গ’-এ গাঁধী স্মৃতি ভবনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল এক্স পোস্টে লেখেন, এখন আমরা, ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদ ও নেতৃত্ব ‘তিস জানুয়ারি মার্গ’-এ গান্ধী স্মৃতিতে যাচ্ছি। আমরা যাচ্ছি সেই সব শিক্ষার্থীদের স্মরণে— যারা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন। আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা যাচ্ছি সেই সব শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে— যারা আজ আহত, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার সময়ে যাঁদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। এই লড়াইয়ে ভারতের শিক্ষার্থীরা একা নন, গোটা বিরোধী শিবির তাঁদের এবং তাঁদের দাবির পাশে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠকের জন্য বিরোধী সাংসদেরা রাহুলের বাংলোয় পৌঁছানোর পরে দিল্লি পুলিশ তড়িঘড়ি বাংলোর বাইরে ব্যারিকেড বসায়। এই ঘটনার জেরে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। সন্ধ্যায় বৈঠক শেষ হওয়ার পরে কংগ্রেস গান্ধী স্মৃতি পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে। এর পরে বাংলোর সামনে দাঁড় করানো তিনটি বাসে উঠতে যান রাহুল-প্রিয়ঙ্কারা। সে সময় দিল্লি পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাদানুবাদ হয়। রাহুল-সহ বিরোধী নেতা-সাংসদদের বাসের সামনে বাঁধা ছিল জাতীয় পতাকা।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি না-হওয়ায় দিল্লি পুলিশের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় রাহুলদের। শেষ পর্যন্ত গাান্ধী স্মৃতির উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে বাইরে বেরিয়ে প্রিয়ঙ্কা অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের ধর্নায় হামলা চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। প্রসঙ্গত, ছাত্র-যুবদের সোমবারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর লোক কল্যাণ মার্গের সরকারি বাংলোর সামনে ধর্না-বিক্ষোভে বসে আটক হয়েছিলেন রাহুল। সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে, সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতা-নেত্রীরা। তার প্রেক্ষিতেই এই ‘তৎপরতা’ বলে মনে করা হচ্ছে।

মোদীর টুইটে ফাস্ট ট্র্যাক
প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের ধারাবাহিক বিক্ষোভের মাঝে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। তাঁদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আধিকারিকদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সিজেপি-র তরফে মোদীর বক্তব্যকে পুনরায় পোস্ট করে লেখা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে। অন্যদিকে, মোদীর পোস্টের পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী লেখেন, আপনিই আমাদের দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। আপনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে দখল এবং ধ্বংস হতে দিয়েছেন। এর জন্য দায়ীদের রক্ষা করেছেন এবং প্রশ্রয় দিয়েছেন। এর পর রাহুল লেখেন, ‘‘ছাত্রদের দাবিগুলি একেবারে স্পষ্ট: ১. ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে। ২. ছাত্রদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ৩. ছাত্রদের উপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।


নড্ডাদের প্রস্তাবে সিজেপি-র ‘না’
সিজেপি-র প্রতিনিধিদের বৃহস্পতিবার ফের আলোচনায় ডাকে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের তরফে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ বৃহস্পতিবার জানান, যে কোনও সময়ে তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে জিতেন্দ্র ছাড়াও থাকবেন আর এক মন্ত্রী জেপি নড্ডা। নড্ডার বাড়ি বা অফিসে আলোচনা হতে পারে। কথা বলে সমস্যার সমাধানের আর্জিও জানান জিতেন্দ্র। কিন্তু সিজেপি এই আমন্ত্রণ খারিজ করে দেয়। তারা নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা চেয়েছে।

জিতেন্দ্রের বক্তব্য, এই নিয়ে বুধবার বিকেল থেকে মোট চারবার বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য ডাকা হল। সরকার শিক্ষার্থীদের শুভাকাঙ্ক্ষী এবং তাদের দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, সরকার চার বার আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভকারীদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমাদের বার্তা, সমস্ত বিষয় নিয়ে সরকার আপনাদের সুবিধামতো যে কোনও সময়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমি আপনাদের সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, আসুন, আলোচনায় বসুন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডার বাড়ি বা অফিসে বৈঠক হতে পারে। নড্ডা এবং আমি সেখানে থাকব। আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমরা একটা সমাধানের দিকে এগোব। ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণের জন্য সরকার ধারাবাহিক পদক্ষেপ করছে বলে জানান জিতেন্দ্র। এই আলোচনায় আহ্বানও তার একটি অঙ্গ।

সরকার বার বার ডাকলেও নড্ডার বাড়ি বা দফতরে আলোচনায় রাজি নয় সিজেপি। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নড্ডার আমন্ত্রণপত্র যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তা নাকচ করে দিয়েছেন। সিজেপি-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে এর আগে এক বার বৈঠক করেছেন নড্ডা। বিক্ষোভকারী ছাত্র-যুবদের দাবিগুলি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সমাধানসূত্র মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে বুধবার ইন্টারনেট সংযোগ স্তব্ধ করে যন্তর মন্তরে পুলিশি অভিযান শান্তিপ্রক্রিয়ায় নতুন করে অন্তরায় তৈরি করেছে।

মুম্বইয়ে আন্দোলনে‌ ঠাকরে ভাইয়েরা
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পড়ুয়াদের আন্দোলনের আঁচ পৌঁছে গিয়েছে মুম্বইয়েও। এবার সেই আন্দোলনকারীদের সমর্থনে এগিয়ে এলেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)-র প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান রাজ ঠাকরে। আগামী রোববার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনকারীদের সমর্থনে ‘অরাজনৈতিক সমাবেশ’ করার ঘোষণা করেন দুই নেতা।

বৃহস্পতিবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে উদ্ধব এবং রাজ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দিল্লির ধাঁচে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের উপর পুলিশি হামলা হলে তার পরিণতি ভুগতে হবে মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে। রাজের হুঁশিয়ারি, বাধা দিতে এলে গুঁড়িয়ে দেব।

বন্ধ ইন্টারনেট!
বুধবার গভীর রাতে ইন্টারনেট সংযোগ স্তব্ধ করে দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিশ শাহের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসা শিক্ষার্থীদের উপর নতুন করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ইট-পাথর ছোড়ায় অভিযোগ ওঠে আন্দোলনকারীদের একাংশের বিরুদ্ধেও। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণলয়ের সচিব মহেন্দ্র বিক্রম সিংহ দিল্লি পুলিশকে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়ে বিকেল ৪টা থেকে যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করার কথা জানিয়েছেন। এর ফলে নতুন করে পুলিশি অভিযানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মারধরের ঘটনায় সরসারি জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে ওই ব্যক্তিদের পাসপোর্ট বাতিল করা হতে পারে। ইতোমধ্যে বিক্ষোভের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। তা দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে যন্তর মন্তরের কাছে বাহিনীর উপর পাথর ছোড়ার ঘটনায় দুইজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) এবং চার জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। তাদের মধ্যে এসিপি বিবেক ভগতকে রাতেই দিল্লির রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন ইনস্পেক্টর নন্দকিশোর সিংহ। বুধবার রাতের ওই অশান্তির সময় পাথর ছোড়ার ঘটনায় পদক্ষেপও করেছে দিল্লি পুলিশ। রুজু করা হয়েছে এফআইআর।

উত্তেজনার আঁচ সংসদেও
বৃহস্পতিবারও আন্দোলন নিয়ে উত্তপ্ত ছিল সংসদ চত্বর। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবিতে সকালে সংসদের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী সাংসদেরা। পাল্টা বিক্ষোভ দেখান এনডিএ-র সাংসদেরাও। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের যুবসমাজকে প্ররোচিত করছেন রাহুল গান্ধী। বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভে রাহুল ছাড়াও শামিল হয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। গোটা বাদল অধিবেশনের জন্য নিলম্বিত (সাসপেন্ড) হলেও বিরোধী বিক্ষোভে দেখা যায় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এরই মধ্যে, তিনি এনসিপিআই-এ মিশে যাওয়া তৃণমূলের ২০ জন সাংসদকে কটাক্ষ করে স্লোগান দেন, বিজেপির সঙ্গে সংসদে ২০ গদ্দার রয়েছে।

বিরোধী সাংসদদের জমায়েত থেকে স্লোগান ওঠে ‘জীবন বাঁচাও, নিট বন্ধ করো’ বিরোধী সাংসদদের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করা হয়। অন্যদিকে, এনডিএ সাংসদদের জমায়েত থেকে স্লোগান ওঠে, ‘যুবসমাজকে ঘাঁটিও না, রাহুল গান্ধী জেগে ওঠো।’ সংসদে বিরোধীদের মোকাবিলার পাশাপাশি আন্দোলনকারী ‘ককরোচ’দেরও বাগে আনতে সক্রিয় কেন্দ্র। তবে সূত্রের খবর, গোল বেধেছে জোড়া শর্ত নিয়ে। সিজেপির অন্যতম দাবি— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনকারীদের সমর্থনে অনশনে বসা সোনম ওয়াংচুকও সেই দাবি তুলেছিলেন। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে ‘নিউজডট১৮’ জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসেছেন সোনম। যদিও প্রকাশ্যে এমন কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

ওই সূত্রের দাবি, সোনমের নতুন অবস্থানের ফলে অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সিজেপি এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়। আলোচনা শুরুর আগে ফের দুইটি পূর্বশর্তের উপরে জোর দিচ্ছেন সিজেপির প্রতিনিধিরা। প্রথমত, ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগ। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রের সঙ্গে যা কিছু আলোচনা— সব যন্তর মন্তরেই করতে হবে। সিজেপি চাইছে, আলোচনা হোক প্রকাশ্যে।

তবে সরকারি সূত্রের দাবি, সিজেপির এই দুই দাবির কোনোটিই মানতে রাজি নয় কেন্দ্র। ফলে আলোচনা ঘিরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ওই সূত্র জানাচ্ছে, কেন্দ্র আলোচনায় রাজি। তবে কোনও পূর্বশর্ত মেনে নিতে রাজি নয়। এ অবস্থায় অচলাবস্থা কাটাতে সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখছে কেন্দ্র। আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করার জন্য কোনো একটি মধ্যপন্থা খুঁজে বার করারও চেষ্টা চলছে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

সময়ের আলো/আআ




  বিষয়:   আন্দোলন  ভারত  প্রশ্নফাঁস  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: