ভারতে একাধিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত খ্যাতিমান জলবায়ু ও সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুক তার ২৬ দিনের আমরণ অনশন ভঙ্গ করেছেন। দেশজুড়ে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানো এবং কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনার পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক জানান, কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এবং দেশে যেন নতুন করে সহিংসতা না ছড়িয়ে পড়ে— সেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনশন ভঙ্গের সময় ভারতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের কিছু আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত সাজা নিশ্চিত করতে বিশেষ 'ফাস্ট-ট্র্যাক' আদালত গঠন করা হচ্ছে। এই ইস্যুতে শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে আলোচনা হবে এবং আগামী সপ্তাহে সংসদে কঠোর বিধান রেখে নতুন বিল উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে দিল্লিতে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে যে গণআন্দোলন শুরু করে, তার সমর্থনে অনশনে বসেন সোনম ওয়াংচুক। তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি-এর মূল দাবি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। চলতি সপ্তাহে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে; পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করলে আন্দোলন সহিংস আকার ধারণ করে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক অনশন ভঙ্গ করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি ওয়াংচুকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আপনার এই আত্মত্যাগ পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তবে আমাদের আন্দোলন থামছে না; শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে শান্তিপূণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/কেএইচ