পরকালীন মুক্তি ও চিরস্থায়ী সফলতা অর্জনের জন্য, দুনিয়ার জীবনে গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং বেশি বেশি নেক আমল করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়া ও অনুগ্রহে এমন কিছু সৌভাগ্যবান বান্দাকে বিশেষ মর্যাদা দান করবেন, যারা কোনো হিসাব-নিকাশ বা শাস্তি ছাড়াই সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করবেন। কারা এই সৌভাগ্যবান মানুষ এবং তাদের বৈশিষ্ট্য কী, সে বিষয়ে নবীজি (সা.) স্পষ্ট বলে গিয়েছেন।
বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারীদের বৈশিষ্ট্য
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, সহিহ বুখারির (হাদিস : ৬৫৪১) একটি দীর্ঘ হাদিসে নবীজি (সা.) এমন একদল মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—
১. শিরকি ও শরিয়তবিরোধী ঝাড়ফুঁক থেকে বিরত থাকা
তারা রোগ-ব্যাধি বা বিপদ-আপদে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। শিরক, কুসংস্কার বা শরিয়তবিরোধী ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় না নিয়ে একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করেন।
২. কুসংস্কারমুক্ত জীবনযাপন
ইসলামে কোনো দিন, সময়, ব্যক্তি, পাখি বা বস্তুকে অশুভ মনে করার সুযোগ নেই। বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারীরা সব ধরনের কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস থেকে নিজেদের মুক্ত রাখেন এবং ইসলামের বিশুদ্ধ আকিদা অনুসরণ করেন।
৩. আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুল
তাদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা। জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে তারা আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন এবং সব কাজে তাঁর ওপরই ভরসা করেন।
জান্নাতে তাদের সম্মান ও মর্যাদা
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারীদের সৌন্দর্য ও সম্মান সম্পর্কে বলেন, তাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়।
জান্নাতে তাদের থুতু ফেলা, প্রস্রাব-পায়খানা বা কোনো ধরনের শারীরিক কষ্টের প্রয়োজন হবে না। তাদের শরীর থেকে যে ঘাম বের হবে, তা কস্তুরির মতো সুগন্ধযুক্ত হবে।
তাদের পানাহারের পাত্র হবে সোনার তৈরি এবং তাদের চিরুনি হবে সোনা ও রুপার। তাদের দৈহিক গঠন হবে আদি মানব হজরত আদম (আ.)-এর আকৃতির মতো। তাদের অন্তরে থাকবে না কোনো হিংসা, বিদ্বেষ বা মতভেদ। তারা পরস্পরের প্রতি গভীর ভালোবাসায় আবদ্ধ থাকবে এবং সকাল-সন্ধ্যা মহান আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে। (বুখারি : ৩২৪৫)।
বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করা নিঃসন্দেহে একজন মুমিনের জন্য সর্বোচ্চ সৌভাগ্যের বিষয়। তাই আমাদের উচিত বিশুদ্ধ আকিদা ধারণ করা, শিরক ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করা। পাশাপাশি ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালন, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং নেক আমলে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই সৌভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সময়ের আলো/এসএকে