জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েলসহ অন্তত ৬০টি দেশের ওপর নতুন করে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কোনো আইন নেই— যেমন চীন, যুক্তরাজ্য, জাপান ও ইসরায়েল— সেসব দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো যেসব দেশ এ ধরনের আইন প্রণয়ন করেছে, কিন্তু কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সেসব দেশের জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ শতাংশ। নতুন এই ব্যবস্থা শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট (যুক্তরাষ্ট্র সময়) থেকে কার্যকর হবে। একই সময়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে আরোপ করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। এখন সময় এসেছে আমাদের বাণিজ্য অংশীদাররাও একই মানদণ্ড অনুসরণ করবে।’
তিনি বলেন, নতুন এ পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বৈষম্যমূলক বাণিজ্যচর্চা মোকাবিলার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ভারতকে অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল। তবে সর্বশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভারত জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধে প্রয়োজনীয় আইন ও পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে ভারতের ক্ষেত্রে মোট শুল্কহার ১০ শতাংশই থাকছে।
হোয়াইট হাউস জানায়, ভারত ছাড়াও কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, শ্রীলঙ্কা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং জর্ডানও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ায় তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন আরও একটি শুল্ক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে। এবার লক্ষ্য হবে এমন দেশগুলো, যারা অতিরিক্ত উৎপাদনে সরকারি ভর্তুকি দিয়ে বিশ্ববাজারে কম দামে পণ্য বিক্রি করছে, যা মার্কিন শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন করে তুলছে।
সময়ের আলো/কেএইচ