হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে চলমান নিরাপত্তা সংকটের কারণে সৌদি আরবকে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতিটি তেলবাহী ট্যাংকারের যাত্রায় প্রায় এক মাস অতিরিক্ত সময় লাগছে এবং খরচ বাড়ছে প্রায় ২৫ লাখ ডলার। এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলার কারণে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব— বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে সৌদি আরব এখন মিসরের সুয়েজ খাল ব্যবহার করে তেল রপ্তানির পথ বেছে নিচ্ছে। তবে সৌদির প্রধান ক্রেতারা বর্তমানে এশিয়ায় হওয়ায় সুয়েজ হয়ে এশিয়ায় পৌঁছাতে ট্যাংকারগুলোকে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
শিপিং তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলার ও এলএসইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে বাব আল-মান্দাব হয়ে তাইওয়ানে যেতে একটি তেলবাহী জাহাজের সময় লাগে প্রায় ১৯ দিন। কিন্তু সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর, জিব্রাল্টার প্রণালি এবং আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ‘কেপ অব গুড হোপ’ ঘুরে একই গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৪৮ দিন।
এতে শুধু জ্বালানি ব্যয়ই প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১২ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ২৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারে পৌঁছায়। এর সঙ্গে সুয়েজ খাল ব্যবহারের জন্য প্রায় ১০ লাখ ডলার ফিও যোগ হয়।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সৌদি আরব উপসাগরীয় রুটের পরিবর্তে লোহিত সাগর দিয়ে অধিকাংশ তেল রপ্তানি শুরু করে। কিন্তু চলতি সপ্তাহে হুথিদের হামলার কারণে সেই পথও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। ফলে দেশটি এখন সুয়েজ খালনির্ভর রুটে আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস জানিয়েছে, বড় আকারের তেলবাহী ট্যাংকারগুলো সুয়েজ খালের গভীরতার সীমাবদ্ধতার কারণে পূর্ণ ধারণক্ষমতায় চলাচল করতে পারে না। তাই সেগুলোকে আংশিক খালি অবস্থায় সুয়েজ পার হয়ে ভূমধ্যসাগরে গিয়ে আবার তেল তুলতে হয়।
এ জন্য সৌদি আরব ৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুমেদ পাইপলাইন ব্যবহার করতে পারে। এই পাইপলাইন লোহিত সাগরের আইন সুখনা তেল টার্মিনালকে ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং সুয়েজ খাল এড়িয়ে তেল পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সময়ের আলো/কেএইচ