টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও লোহিত সাগরে সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল বহনকারী দুটি চীনা সুপারট্যাংকারকে যেতে দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক স্থাপনায় নতুন দফা হামলা চালায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খোন্দাব, খোররামাবাদ, কোনারাক, জাস্ক, কেশম দ্বীপ, আহভাজ, আন্দিমেশক, ওমিদিয়েহ এবং বন্দর আব্বাসসহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, খোররামাবাদে ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আহভাজের কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মেহর নিউজ জানায়, খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক ও ওমিদিয়েহ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলেও সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাংকার অতিক্রম করেছে, যা গত ৭ মে-পরবর্তী সর্বনিম্ন।
তবে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য বলছে, শুক্রবার সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল বহনকারী দুটি চীনা সুপারট্যাংকার নিরাপদে বাব আল-মান্দাব প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগে সোমবার হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় হামলা চালানোর বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।
তিনি বলেন, আমি একটি বিশাল হামলার কথা ভাবছি, যা আগের যেকোনো হামলার চেয়ে বড় হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি।
এ ছাড়া ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইরানের জব্দ করা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ভবিষ্যতের দাবির ক্ষতিপূরণ দিতে অন্য একটি দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।
তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, একবার রাষ্ট্রগুলো যদি এ ধরনের সম্পদ জব্দ করাকে স্বাভাবিক করে তোলে, তাহলে কোনো দেশের সম্পদই আর নিরাপদ থাকবে না। এতে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে।
সময়ের আলো/কেএইচ