ভারতের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলনের কোনো সমাধান হবে না।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বৈঠকের আগে দিপকে বলেন, সরকার যদি এই আন্দোলনের সমাধান চায়, তাহলে একমাত্র পথ হলো ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
তিনি আরও বলেন, আমরা পিছু হটব না। পদত্যাগের কম কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়।
লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভেঙে আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও অবস্থান বদলাবেন কি না— এমন প্রশ্নে দিপকে বলেন, আন্দোলন এখন আর শুধু তার বা ওয়াংচুকের নয়; এটি সারা দেশের তরুণদের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, আলোচনায় তারা প্রস্তুত। তবে প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার বাসভবন বা সরকারি আবাসে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সিজেপি নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার দাবি জানালে শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকার তাদের দাবি মেনে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আলোচনায় রাজি হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার উন্মুক্ত মন নিয়ে জনগণের বক্তব্য শুনবে।
এর আগে ২০ জুলাই জে.পি. নাড্ডার বাসভবনে দুই পক্ষের বৈঠক হয়েছিল। পরে সিজেপির নেতারা অভিযোগ করেন, ওই বৈঠকের সময় তাদের কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। এরপর থেকেই তারা নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের আশ্বাসও দেন তিনি।
তবে তার ঘোষণায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না। এ নিয়ে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রানকা বলেন, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা নতুন কিছু নয়। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার সমাধান নয়।
সরকার শিক্ষাখাতে আরও কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তনও এনেছে। উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে এবং স্কুল ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের শীর্ষ পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বৃহস্পতিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় জানান, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রস্তাব শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে এবং আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
প্রশ্নফাঁসবিরোধী এই আন্দোলনে ভারতের বিরোধী দলগুলোও সমর্থন জানিয়েছে। তারাও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে।
সময়ের আলো/কেএইচ