জাতীয় বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, বিশেষ করে নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।
সিজেপির দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে কেন্দ্র শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা করে শনিবার আবারও বৈঠক করা হবে।
সিজেপির দাবি
শুক্রবারের বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। সিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেন দলের জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা।
বৈঠক শেষে আশুতোষ রানকা সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি বিবেচনার জন্য শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি সরকার দ্রুত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করবে। প্রধানমন্ত্রীকেও আমাদের এই দাবির কথা জানানো হবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
রানকার দাবি, আন্দোলনকারীদের অন্য দুটি দাবির প্রতিও সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— নিট পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর ও মামলা প্রত্যাহার।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ সিজেপি জানায়, সরকার নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া তারা অন্য কোনো সমাধান মেনে নেবে না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় দলটি।
সরকারের বক্তব্য
বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা বলেন, সিজেপি তাদের তিনটি প্রধান দাবি এবং পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে পাঁচটি প্রস্তাব সরকারের সামনে উপস্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, বৈঠক প্রায় দুই ঘণ্টা চলেছে। আমরা তাদের জানিয়েছি, শনিবার দুপুরে আবার বৈঠক হবে। এর মধ্যে সরকার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে এবং পরবর্তী বৈঠকে নিজেদের অবস্থান জানাবে।
তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ বা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত আশ্বাস দেয়নি। শুধু জানানো হয়েছে, দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।
একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি নেতা বলেন, শনিবার আবার বৈঠক হচ্ছে বলে এর বিশেষ কোনো ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। যদি পরীক্ষা সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়, তাহলে সেটি সমস্যার সমাধানের জন্যই হবে।
কীভাবে আলোচনায় এলো সিজেপি
গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আদালতের এক শুনানিতে কিছু বেকার যুবক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মীদের 'তেলাপোকা' ও 'পরজীবী' বলে মন্তব্য করেছেন— এমন দাবি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এরপর বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে 'ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)' গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।
আন্দোলনের পটভূমি
গত ২৮ জুন জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক সিজেপির আন্দোলনে যোগ দেন এবং অনশন শুরু করেন। পরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।
গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলের ডাক দিলে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরপর থেকে যন্তর মন্তর এলাকায় কড়া নজরদারি বজায় রয়েছে এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও বার্তায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার সরকার ও সিজেপির মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তবে আলোচনায় অংশ নিলেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে একচুলও সরে আসেনি সিজেপি। দলটির বক্তব্য, এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ