আজ আন্তর্জাতিক সেলফ-কেয়ার ডে। নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরতেই দিনটি পালন করা হয়। শুক্রবার (২৪ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে শুধু ভালো খাবার খাওয়া বা ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয়। বয়স অনুযায়ী নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষাও জরুরি। এতে অনেক রোগ শুরুতেই ধরা পড়ে, ফলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয় এবং জটিলতার ঝুঁকিও কমে।
আন্তর্জাতিক সেলফ-কেয়ার ডে উপলক্ষে চিকিৎসক নিরাজ কুমার জানিয়েছেন, সবার জন্য একই ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা উপযুক্ত নয়। বয়স, পারিবারিক রোগের ইতিহাস, জীবনযাপন, লিঙ্গ এবং আগের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে পরীক্ষা নির্ধারণ করা উচিত।
২০ বছরে যেসব পরীক্ষা জরুরি : এই বয়স থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ, ওজন এবং বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
পাশাপাশি সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা (সিবিসি), রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো ভালো। বিশেষ করে পরিবারে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে এসব পরীক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া নিয়মিত দাঁত ও চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করা উচিত। যৌনভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের প্রয়োজন হলে যৌনবাহিত সংক্রমণের পরীক্ষাও করাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও মানসিক চাপ আছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
৩০ বছরে কী কী পরীক্ষা করবেন : ৩০ বছরে কাজের চাপ বাড়ে, শারীরিক পরিশ্রম কমে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হতে শুরু করে। এতে জীবনযাপন-সম্পর্কিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।
এ সময় নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করানো উচিত। প্রয়োজন হলে থাইরয়েড পরীক্ষাও করা যেতে পারে।
ধূমপায়ী, অতিরিক্ত ওজনের মানুষ, কম শারীরিক পরিশ্রম করেন এমন ব্যক্তি বা যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে, তাদের আরও ঘন ঘন স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
নারীদের নিয়মিত জরায়ুমুখের ক্যানসার পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি স্তন পরীক্ষা করানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পুরুষদের হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। এ ছাড়া চোখ, দাঁত ও মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষাও নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে।
৪০ বছরে কোন পরীক্ষাগুলো গুরুত্বপূর্ণ : ৪০ বছর পার হলে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই প্রতি বছর রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল, কিডনি, লিভার, ওজন ও বিএমআই পরীক্ষা করা জরুরি। প্রয়োজনে হৃদ্যন্ত্রের ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য ইসিজিসহ অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন চিকিৎসক।
এই বয়সে ক্যানসার শনাক্তের পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নারীদের জরায়ুমুখের ক্যানসারের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম করানোর বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পুরুষদের পরিবারে প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে প্রোস্টেট পরীক্ষা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।
এছাড়া ৪৫ বছর বয়সের কাছাকাছি থেকে কোলন ক্যানসার শনাক্তের পরীক্ষাও করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে পরিবারের কারও এ রোগ থাকলে আরও আগে থেকেই পরীক্ষা শুরু করতে হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এতে চিকিৎসা সহজ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার সম্ভাবনাও বাড়ে। তবে কোন পরীক্ষা কত ঘন ঘন প্রয়োজন, তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
সময়ের আলো/আআ