টক-মিষ্টি স্বাদে স্বাবলম্বী আয়েশা

তাসলিমা নীলু

ফিচার

উচ্চশিক্ষার সনদ অর্জনের পর অধিকাংশ নারীর জীবনই সংসার আর সন্তানের দেখভালের বাঁধাধরা ছকে আটকে যায়। কিন্তু সেই ব্যস্ত জীবনযাত্রার মাঝেও

2026-07-22T12:15:56+00:00
2026-07-22T12:15:56+00:00
 
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
ফিচার
টক-মিষ্টি স্বাদে স্বাবলম্বী আয়েশা
তাসলিমা নীলু
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
উচ্চশিক্ষার সনদ অর্জনের পর অধিকাংশ নারীর জীবনই সংসার আর সন্তানের দেখভালের বাঁধাধরা ছকে আটকে যায়। কিন্তু সেই ব্যস্ত জীবনযাত্রার মাঝেও কিছু মানুষ নিজের একটি স্বাধীন সত্তা, একটি নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। তেমনি একজন অদম্য নারী আয়েশা বেগম। 

মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর সাংসারিক ব্যস্ততার ঘানি টানলেও তার মন প্রতিনিয়ত উন্মুখ হয়ে থাকত নিজে কিছু করার জন্য। নিজের একটি আলাদা পরিচয় ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জনের সেই তীব্র তাড়না থেকেই আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। শৈশবের এক শখকে নতুন উদ্যমে ব্যবসায় রূপ দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন জনপ্রিয় অনলাইন ব্র্যান্ড ‘আলিজাস ফুড’।

শৈশবের শখ ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প
আয়েশা বেগমের আচারের গল্পটা কিন্তু এক দিনে গড়ে ওঠেনি। তখন তিনি ক্লাস সেভেনে পড়েন, কৌতূহল আর শখের বশেই জীবনের প্রথম আচার তৈরি করেছিলেন। সেই শুরু! তারপর থেকেই নিয়মিত পরিবারের খাবারের টেবিল কিংবা স্বজনদের উপহারের তালিকায় শোভা পেত তার হাতে তৈরি জিভে জল আনা আচার। স্বজনদের নিয়মিত প্রশংসা আর ভালোবাসাই ছিল তার মূল উদ্দীপনা। পরবর্তীতে ২০২০ সালে সংসার ও সন্তানের পরিচর্যার পাশাপাশি যখন স্বাবলম্বী হওয়ার প্রবল স্পৃহা জাগল, তখন এই শখকেই ব্যবসায়িক রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শৈশবের ভালোবাসাকে নতুন উদ্যমে বাণিজ্যিক যাত্রায় পরিণত করেন আয়েশা।

প্রথম অর্ডারের চমক ও ১৩টি দেশে বিস্তার
ব্যবসায়ের শুরুটা কিন্তু কোনো সুসজ্জিত পেজ বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হয়নি। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সাধারণ একটি আচারের পোস্ট দেন আয়েশা। আর তাতেই ঘটে এক দারুণ ঘটনা! সেই প্রথম পোস্ট দেখেই দূর দেশ সৌদি আরব থেকে এক প্রবাসী ভাই একবারে চার হাজার টাকার আচারের অর্ডার করে বসেন। এই প্রথম অর্ডারের সাফল্য তার মনে আত্মবিশ্বাসের যে জোয়ার এনেছিল, তা আর দমে যায়নি। এরপর থেকে নিয়মিত অর্ডারের চাপ সামলাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেন তার ব্যবসায়িক পেজ আলিজাস ফুডের।

বর্তমানে দেশীয় সীমানা ছাড়িয়ে আলিজাস ফুডের তৈরি আচারের সুবাস পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইনসহ বিশ্বের অন্তত ১৩টি দেশে প্রবাসীরা ও তাদের স্বজনরা সানন্দে আয়েশার তৈরি আচার নিয়ে গেছেন। রান্নার গুণগত মান আর খাঁটি স্বাদের কারণেই প্রবাসে থাকা বাঙালিরা বারবার আলিজাস ফুডের কাছে ফিরে আসেন।

৩০টি আইটেম ও লাখ টাকার ব্যবসা
আলিজাস ফুডের মেনুতে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ৩০টি ভিন্ন আইটেম। দেশীয় স্বাদের রকমারি আচার, সুবাসিত খাঁটি ঘি এবং জিভে জল আনা বালাচাওসহ সবই মিলছে এখানে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ছাড়াই প্রতিটি পণ্য নিজস্ব রেসিপিতে আয়েশা বেগম সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে নিজের হাতে তৈরি করেন। পণ্যের গুণগত মান আর খাঁটি স্বাদের কারণেই ক্রেতারা আস্থার জায়গায় রেখেছেন তাকে। বর্তমানে পেজ ও আইডি মিলিয়ে প্রতি মাসে তার গড় বিক্রি লাখ টাকার ওপর!

বাধা জয় ও পরিবারের অনুপ্রেরণা
তবে আজকের এই সফল অবস্থানে আসার পথটি একদম মসৃণ ছিল না। শুরুতে মানসম্মত কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে পণ্যের উপযুক্ত প্রাইসিং নির্ধারণ- প্রতিটি পদক্ষেপেই অভিজ্ঞতা না থাকায় একাধিকবার হোঁচট খেতে হয়েছে। পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের নানা নেতিবাচক মন্তব্যের ভয় তো ছিলই, ‘এত পড়াশোনা করে মাস্টার্স কমপ্লিট করার পর মেয়ে অনলাইনে আচার বিক্রি করে!’ এমন টিপ্পনী শোনার শঙ্কা ছায়া ফেলত মনে। তবে সব প্রতিকূলতায় পাশে দাঁড়িয়েছেন তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা।

পরিবার থেকে প্রাপ্ত অকৃত্রিম সাহস ও সহযোগিতাই তার এই পথচলাকে সহজ করেছে। আজ সব বাধা পেছনে ফেলে আয়েশা বেগম কেবল নিজের অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতাই নিশ্চিত করেননি, বরং হাজারো নারীর কাছে হয়ে উঠেছেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সততা, ভালোবাসা আর ধৈর্য থাকলে যে নিজের ঘর থেকেই বিশ্বজয়ের গল্প লেখা সম্ভব, আলিজাস ফুডের জয়যাত্রা যেন তারই এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   নারী  উদ্যাক্তা  ফিচার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: