জাতীয় আম দিবসে জানুন আমের জানা-অজানা

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

গ্রীষ্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রিয় ফলের নাম আম। অনন্য স্বাদ, মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ এবং অসাধারণ পুষ্টিগুণের কারণে ছোট-বড় সবার কাছেই আমের

2026-07-22T21:44:49+00:00
2026-07-22T21:45:47+00:00
 
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
ফিচার
জাতীয় আম দিবসে জানুন আমের জানা-অজানা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম  আপডেট: ২২.০৭.২০২৬ ৯:৪৫ পিএম
আম। ছবি : সংগৃহীত
গ্রীষ্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রিয় ফলের নাম আম। অনন্য স্বাদ, মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ এবং অসাধারণ পুষ্টিগুণের কারণে ছোট-বড় সবার কাছেই আমের আলাদা কদর রয়েছে। শুধু সুস্বাদু ফল হিসেবেই নয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণেও আমকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। এই গুরুত্বকে স্মরণ করতেই প্রতিবছর ২২ জুলাই পালিত হয় জাতীয় আম দিবস।

জাতীয় আম দিবসের সূচনা ভারতে হলেও, পরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ম্যাঙ্গো বোর্ডও এ উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ভারতে প্রথম আমের চাষ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে মানুষের ভ্রমণ ও বাণিজ্যের মাধ্যমে আম ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিশ্বে বছরে প্রায় ২ কোটি টন আম উৎপাদিত হয় এবং উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই হয় ভারতে। উৎপাদনের দিক থেকে চীন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, আর বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আম উৎপাদনকারী দেশ।


আম শুধু একটি ফল নয়, এটি বহু দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অংশ। ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের জাতীয় ফল আম। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ আমগাছ। ভারতে আমের ঝুড়ি বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশটিতে ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতিবছর দিল্লিতে আন্তর্জাতিক আম উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে।

একটি আমগাছ ১০০ থেকে ১৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং অনেক আমগাছ ৩০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থেকে নিয়মিত ফল দেয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১ হাজারেরও বেশি জাতের আম রয়েছে। এর মধ্যে আতাউলফো (হানি ম্যাঙ্গো), হেডেন, আরউইন এবং টমি অ্যাটকিনস আন্তর্জাতিকভাবে বেশ পরিচিত। কোনো জাতের আম খুব মিষ্টি, কোনোটি টক-মিষ্টি, আবার কিছু জাত বিশেষভাবে জুস তৈরির জন্য উপযোগী।


স্বাদের পাশাপাশি আম পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম, খাদ্যআঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। একটি আম শরীরের দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর বড় একটি অংশ পূরণ করতে পারে। এসব পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, চোখের সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং হজমশক্তি উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় আম দিবস উদযাপনের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে আম খাওয়া, নতুন নতুন আমের রেসিপি তৈরি করা কিংবা স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত আম কেনা। চাইলে একটি ছোট্ট ‘ম্যাঙ্গো পার্টি’র আয়োজনও করা যেতে পারে।

জাতীয় আম দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা হাজার বছরের ইতিহাস, কৃষকের পরিশ্রম, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং মানুষের সুস্বাস্থ্যের গল্প।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   আম  দিবস  জানা  অজানা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: